ঢাকায় ‘এমব্রায়োনিক শিফটস’


ঢাকায় শুরু হয়েছে বহুমাত্রিক শিল্প ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনী ‘এমব্রায়োনিক শিফটস’ (রূপান্তর)। গতকাল (২২ আগস্ট) শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও বাংলাদেশ’ কর্মসূচির সহায়তায় এর আয়োজন করে ‘শ্যালা নেইবারহুড আর্ট স্পেস’। এই শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে শিল্প, জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

প্রদর্শনীতে মূলত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিল্পকলা ও গণিতের মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে। প্রকৃতি, মানুষের পরিচয়, আত্মোপলব্ধি এবং প্রকৃতির নানা বৈচিত্র্য দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। দৃষ্টির স্থায়িত্ব বা ‘পার্সিস্টেন্স অব ভিশন’ নিয়ে গবেষণাভিত্তিক শিল্পচর্চা থেকে এ প্রকল্পের ধারণা পেয়েছেন শিল্পীরা। স্থির ছবিকে দ্রুত ঘোরানোর মাধ্যমে চোখে চলমান দৃশ্যের যে ভ্রম তৈরি হয়, সেই ধারণা কাজে লাগিয়ে শিল্পকর্ম তৈরি করা হয়েছে। আলো, গতি, যান্ত্রিক কাঠামো ও সম্ভাবনার সমন্বয়ে এতে শিল্পকলার সঙ্গে প্রযুক্তি ও প্রকৌশলকে যুক্ত করা হয়েছে।

এ প্রদর্শনীর মূল আকর্ষণ বড় আকারের একটি জ্যোট্রোপ, যা স্ক্রিন, ফিল্ম বা ডিজিটাল প্রজেকশনের ছাড়াই ঘূর্ণনের মাধ্যমে চলমান দৃশ্যের ভ্রম তৈরি করে। কড়াইলের তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নিবিড় গবেষণা ও নিখুঁত কারিগরি কাজের মাধ্যমে কোষীয় প্রক্রিয়া এবং ভ্রূণের বিকাশের মতো জটিল বৈজ্ঞানিক বিষয়কে ভিজ্যুয়াল আর্টের ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। জটিল একাডেমিক পরিভাষা এড়িয়ে প্রমাণভিত্তিক বিজ্ঞানকে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। একই সঙ্গে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে এবং অন্যের প্রতি সহমর্মী হতে দর্শনার্থীদের উৎসাহ দেবে এই শিল্পকর্ম।

প্রদর্শনী সম্পর্কে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমান বলেন, ‘“এমব্রায়োনিক শিফটস” শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যতিক্রমী সমন্বয়ের মাধ্যমে কীভাবে প্রচলিত ধারণাকে বদলে নতুন ভাবনার সুযোগ তৈরি করা যায়, তার একটি দারুণ উদাহরণ। এখানে আত্মপরিচয় ও বৈচিত্র্যকে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তা “উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড”-এর মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে নানা পরিচয়ের মানুষ তাদের কথা, দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ পান।

এই উদ্যোগকে সহায়তা দেওয়ায় ‘ওয়াও বাংলাদেশ’-এর প্রশংসা করেন মারিয়া। তিনি বলেন, ‘“ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৬” কর্মসূচির মাধ্যমে এমন শিল্পী ও সৃজনশীল কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে পেরে আমরা গর্বিত, যারা প্রচলিত সীমার বাইরে গিয়ে নারী, কিশোরী ও তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। এ উদ্যোগ তাদের নিজেদের কমিউনিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে অনুপ্রাণিত করবে। বহুমাত্রিক শিল্প কীভাবে কৌতূহল জাগিয়ে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং জ্ঞানকে আরও সহজলভ্য করে তুলতে পারে, এই প্রদর্শনী তারই একটি প্রতিফলন।’

নির্মাতা দলের সঙ্গে কড়াইলের অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: সৌজন্যে

মাল্টিডিসিপ্লিনারি শিল্পী ও অ্যানিমেটর সায়কা শবনম চৌধুরী প্রকল্পটির গল্প ও ভিজ্যুয়াল নকশা তৈরি করেছেন। আর ফ্যাব একাডেমির সাবেক শিক্ষার্থী সামিউল হক প্রকল্পটির যান্ত্রিক কাঠামো ও নির্মাণকাজের দায়িত্বে ছিলেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার জন্য ম্যাকান, পারা এবং এবং শালা নেইবারহুড আর্ট স্পেসকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান আয়োজকেরা।

প্রদর্শনী চলবে আগামী ২৯ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ আয়োজন। দর্শনার্থীরা বিনামূল্যে প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখতে পারবেন।

আরএমডি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *