অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিকে আলঙ্কারিক বানানো হচ্ছে


গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডাগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে আলোচনা না করেই জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কমিটির সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটিকে আলঙ্কারিক বানানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

রবিবার (২৩ আগস্ট) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য। 

তার দাবি, বারবার ‘প্রস্তুতি নিয়ে আসিনি’, ‘আরো সময় প্রয়োজন’ কিংবা ‘অন্যদিন আলোচনা করা হবে’- এ ধরনের কারণ দেখিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সময় কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সংসদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কমিটি। অথচ, প্রথম বৈঠক থেকেই এর কার্যক্রমকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে না। গত ২৬ জুলাই কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রয়োজনীয় স্টাডি মেটেরিয়াল আগেই দেওয়া হলেও কয়েকজন সরকার দলীয় সদস্য প্রস্তুতি নিয়ে আসেননি বলে বৈঠকের সময় কমিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। ফলে, প্রথম বৈঠকও অনেকটা অসম্পূর্ণ আলোচনা অবস্থায় শেষ হয়।”

তিনি বলেন, “প্রথমবারের বিষয়টি আমরা মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু, দ্বিতীয় বৈঠকেও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এদিন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঠামোগত সংস্কার, কর-জিডিপি অনুপাতসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, বৈঠক শুরু হওয়ার পরপরই কয়েকজন সদস্য দ্রুত সভা শেষ করার বিষয়ে আগ্রহ দেখান।”

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “অর্থমন্ত্রী বৈঠকটি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে ইতিবাচক ছিলেন। এনবিআরের কর্মকর্তারাও আলোচনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু, সরকার দলীয় কয়েকজন সদস্যের পক্ষ থেকে অন্য বৈঠক থাকার কথা বলে সময় কমিয়ে দেওয়ার চাপ তৈরি হয়।”

তিনি বলেন, “শেষ পর্যন্ত চারটি এজেন্ডার কোনোটিই পূর্ণাঙ্গভাবে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি। এমনকি, কোনো একটি এজেন্ডার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। আপনারা যদি কমিটির সভাপতির কাছে জানতে চান, কোন এজেন্ডায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, কোনোটিতেই সিদ্ধান্ত হয়নি। অথচ, অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক ছিলেন, এনবিআরের কর্মকর্তারাও ইতিবাচক ছিলেন।”

কমিটির কার্যক্রমকে আলঙ্কারিক কমিটি হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে এই তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, “সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উদ্দেশ্য হচ্ছে— গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য শোনা এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। বারবার সময়ের অজুহাতে আলোচনা অসম্পূর্ণ রাখা হলে কমিটির কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।”

তিনি বলেন, “প্রতিদিন একই ধরনের অজুহাত স্টাডি করে আসিনি, আরো একটু সময় লাগবে, অন্যদিন আলোচনা করা হোক। অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআর-সংক্রান্ত এত গুরুত্বপূর্ণ একটি কমিটিতে যদি এই ধরনের কথা বলা হয়, তাহলে কমিটির গুরুত্বই ক্ষুণ্ন হয়।”

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে এ বিষয়ে আপত্তি জানান বলেও উল্লেখ করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, “তারা প্রতিটি এজেন্ডার ওপর আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু, পূর্ণাঙ্গ আলোচনা শেষ না করেই বৈঠক শেষ করে দেওয়া হয়েছে।”

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা মিটিং চালিয়ে যেতে চেয়েছি, প্রত্যেকটি এজেন্ডার ওপর আলোচনা করতে চেয়েছি। কিন্তু, মিটিং সম্পূর্ণ না করেই শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের জায়গা থেকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে আপত্তিকর বলে জানিয়েছি।”

তিনি আরো বলেন, “কমিটির কাজের প্রতি এ ধরনের অবহেলা শুধু একটি বৈঠকের বিষয় নয়। ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা অসম্পূর্ণ রেখে সভা শেষ করার প্রবণতা তৈরি হলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মর্যাদা ও কার্যকারিতা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *