ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে আবারও সাবেক অধিনায়কদের চিঠি


কারাবন্দি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের উপযুক্ত চিকিৎসার দাবিতে সরব হয়েছেন তার সময়ের ক্রিকেটাররা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ২১ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরানের প্রতি মানবিক আচরণ করার আহবান জানিয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের উদ্যোগে গঠিত এই জোটে সই করেছেন ভারতের দুই কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেবও। তারা সবাই মিলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে এক যৌথ আবেদন জানিয়েছেন।

ভারতের গণমাধ্যম দ্য হিন্দু-র এক প্রতিবেদনে এমন আবনের খবর প্রকাশ করেছে।

আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ইমরানকে বেসরকারি হাসপাতালে না নিয়ে দ্রুত আদিয়ালা জেলে ফিরিয়ে নেয় কর্তৃপক্ষ। এরপরই চিঠি পাঠান সাবেক অধিনায়করা।

চিঠিতে তারা বলেন, ছয় মাস আগেও আমরা চৌদ্দজন অধিনায়ক ইমরান খানের সুচিকিৎসার জন্য চিঠি লিখেছিলাম। আমরা রাজনীতি থেকে নয়, খেলার মাঠের পুরনো বন্ধন থেকে এই দাবি জানাচ্ছি। আমাদের এই সম্পর্ক যেকোনো সীমান্ত ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে।

তারা জানান, অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণেই নতুন করে এই চিঠি দেওয়া। এবার আরও সাতজন সাবেক অধিনায়ক তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশনা দিয়েছিল, ইমরান খানের বোন ড. উজমা খান ও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে এক মেডিকেল বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা চালাতে হবে। একই সঙ্গে পরিবারের সাপ্তাহিক সাক্ষাতের অনুমিতও পুনর্বহাল করে আদালত।

সাবেক অধিনায়করা এই নির্দেশকে স্বাগত জানালেও আদালতের অবমাননা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা চিঠিতে লেখেন, ‘হাসপাতালে ইমরানকে রাখা হয়েছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। আদালতের বোর্ডকে তোয়াক্কা না করে সরকারি চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে “সুস্থ” ঘোষণা করেন এবং জেসন ফেরত পাঠান। তার পরিবার ও আইনজীবী দল জানিয়েছে, এটি আদালতের নির্দেশের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

পাক আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো হস্তক্ষেপ না করার কথা জানিয়ে সাবেক অধিনায়করা মূলত তিনটি দাবি তুলেছেন:

স্বাধীন পরীক্ষা: ইমরানের নিজস্ব চিকিৎসকসহ নির্ধারিত মেডিকেল বোর্ডকে স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হবে।

সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ: পরিবারের সঙ্গে আবার চালু হওয়া সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ কোনো ধরনের প্রশাসনিক বাধা ছাড়াই বজায় রাখতে হবে।

দ্রুত চিকিৎসা: পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অবিলম্বে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ইমরান খানের বয়স এখন ৭৩ বছর এবং তিনি তিন বছরের বেশি সময় ধরে জেলে বন্দি। মামলার আইনি ও রাজনৈতিক তর্ক যা-ই থাকুক, আদালতের নির্দেশে চিকিৎসা পাওয়া একটি মৌলিক অধিকার। এতে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই।

তারা যোগ করেন, ক্রিকেট খেলে—এমন প্রতিটি দেশই এই দাবিটিকে পুরোপুরি ন্যায্য বলে মনে করবে।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন ইমরান খান। সেনাদপ্তরের সঙ্গে বিরোধের পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়া এবং পরবর্তী এসব মামলাকে তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত বলেই মনে করেন। তার গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানে তুমুল বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। জোর করে তাকে ফের জেলে পাঠানোর এই ঘটনা নতুন করে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

চিঠির শেষে সাবেক অধিনায়করা আহ্বান জানান, ইমরান খানের প্রাপ্য মর্যাদা রক্ষা করে অতি দ্রুত যেন এই সমস্যার সম্মানজনক সুরাহা করা হয়।

চিঠিতে স্বাক্ষর করা সাবেক ২১ জন অধিনায়কের হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, অ্যালান বর্ডার, স্টিভ ওয়াহ, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, কিম হিউজ ও বেলিন্ডা ক্লার্ক; ভারত থেকে সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব ও দিলীপ ভেংশরকার; ইংল্যান্ড থেকে মাইকেল অ্যাথারটন, মাইক বিয়ারলি, ডেভিড গাওয়ার, নাসের হুসেইন, অ্যান্ড্রু স্ট্রস, অ্যালিস্টার কুক, মাইক গ্যাটিং ও অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল; ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ক্লাইভ লয়েড; শ্রীলঙ্কা থেকে অর্জুনা রানাতুঙ্গা এবং নিউজিল্যান্ডের জন রাইট।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *