মানিকগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মিছিল, থানা ঘেরাও
পদ্মা নদীর বালুমহাল ও চ্যানেল থেকে চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে বিএনপির দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মিছিল, থানা ঘেরাও ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা চত্ত্বর ও থানার সামনে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, লুটপাট, হত্যার হুমকি এবং মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দেওয়ার অভিযোগ তোলে।
পদ্মা নদীর বালুমহাল ও বাল্কহেড থেকে চ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশকিছু দিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় মিরাজ হোসেন মেম্বারের সঞ্চলনায় বাদল শিকদারের সভাপতিত্বে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা ঝাড়ু ও ব্যানার হাতে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এলাকাবাসীর ব্যানারে বের হওয়া ওই মিছিলে মোল্লা শাহিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, লুটপাট ও হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. মোল্লা শাহিন এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক জমি দখল এবং লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ওপর নির্যাতনসহ নানা হয়রানির করেন তিনি।
তারা জানান, ঝাড়ু মিছিল যখন পদ্মা নদীর ঘাট অভিমুখে যাত্রা করে কিছু দূর অগ্রসর হলে হঠাৎ করেই মিছিলে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই বিস্ফোরণের পেছনে মোল্লা শাহিন ও তার অনুসারীরা জড়িত।
অন্যদিকে, হরিরামপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোল্লা শাহিন ও গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিক বিশ্বাসের নেতৃত্বে তার সমর্থকেরা থানার সামনে অবস্থান নেন। সেখানে তারাও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় গালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিক বিশ্বাস বলেন, “আওয়ামী লীগের যারা প্রশাসনে মাঝে ঘাপটি মেয়ে লুকিয়ে আছে, তাদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হরিরামপুর থেকে প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো। আজকে আমরা একটা একটা মৃদু আন্দোলন করলাম মাত্র।”
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হরিরামপুরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে।
এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেছেন, “নদীর মাঝের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একপক্ষ দাবি করেন যে, তাদের ড্রেজারে চাঁদা দাবি করতে গেলে তারা প্রতিহত করেন। আরেকপক্ষ দাবি করেন, তারা চ্যানেল চার্জ আদায় করতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। দুই পক্ষ দুটি এজাহার দাখিল করে। আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দুটি মামলা রুজু করি। মোল্লা শাহিন তাদের বিপক্ষে মামলা রুজু হওয়ার কারণে আজকে থানা ঘেরাও কর্মসূচি গ্রহণ করেন। আমরা থানার গেটে অবস্থান করছিলাম তারা নিরাপদ দূরত্বে থেকে তাদের প্রোগ্রাম শেষ করে। আরেকটি পক্ষ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঝাড়ু-জুতা মিছিল করে। তারাও থানা গেট থেকে ঘুরে তারা চলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
