তারেক মাসুদের চলচ্চিত্রে বাঙালি মুসলমানের অন্তর্দ্বন্দ্বের প্রতিফলন আছে: সলিমুল্লাহ খান
তারেক মাসুদের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক কাজের কথা তুলে ধরে সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘নরসুন্দর’, ‘মুক্তির গান’ ও ‘মাটির ময়না’সহ তাঁর বিভিন্ন কাজে মুক্তিযুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে। নিউইয়র্কে ‘মুক্তির গান’-এর সম্পাদনার শুরুর দিকে তিনি নিজেও কিছুটা সহযোগিতা করেছিলেন বলে জানান। তারেকের চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের প্রযুক্তিগত দিক সম্পর্কেও ভালো জ্ঞান ছিল।
সলিমুল্লাহ খান বলেন, তারেক মাসুদ অল্প বয়সে মারা যাওয়ায় তাঁর সৃষ্টিশীলতার আরও বিকাশের সুযোগ হয়নি। বয়স বাড়ার সঙ্গে একজন চলচ্চিত্রকারের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি আরও সমৃদ্ধ হয়। তাই আরও দীর্ঘ জীবন পেলে তারেকের চলচ্চিত্রচর্চা কোথায় গিয়ে পৌঁছাত, তা ভাবার সুযোগ রয়েছে। তবে তাঁর বিদ্যমান কাজ ও লেখাগুলোই তাঁকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তারেক মাসুদের লেখা ‘চলচ্চিত্রের যাত্রা’ বইয়ের প্রসঙ্গ তুলে সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘যাত্রা’ শব্দটি তারেকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর চলচ্চিত্র ‘অন্তর্যাত্রা’র নামেও সেই ভাবনার প্রতিফলন রয়েছে। তারেকের লেখায় কবিত্ব ও সাহিত্যপ্রতিভার পরিচয়ও পাওয়া যায়, যদিও তিনি অনেক সময় নিজের সেই প্রতিভা আড়াল করার চেষ্টা করেছেন।
