স্মার্টফোন আসার আগে যে ৫ ফোনে মজেছিল দুনিয়া


একসময় মোবাইল ফোন মানেই ছিল ছোট স্ক্রিন, ফিজিক্যাল কিবোর্ড, ফ্লিপ ডিজাইন কিংবা অদ্ভুত সব নতুন ফিচার। আজকের মতো অ্যাপ, এআই বা ফোল্ডেবল ডিসপ্লের কথা তখন কল্পনাতেও ছিল না। তবু সেই সময়ের কয়েকটি ফোন প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে এমন সাড়া ফেলেছিল, যেগুলোর কথা এখনো মনে পড়ে যায় নস্টালজিয়ায়।

নোকিয়া ৩৩১০: স্নেক গেমের সেই ফোন

২০০০ সালে বাজারে আসা নোকিয়া ৩৩১০ মোবাইল ফোনের ইতিহাসে অন্যতম পরিচিত নাম। শক্তপোক্ত গঠন, সহজ ব্যবহার এবং দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপের কারণে ফোনটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২৬ মিলিয়ন ইউনিট বিক্রি হয়েছিল এই মডেলের। তবে বাংলাদেশের অনেকের কাছে নোকিয়া ৩৩১০-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল স্নেক গেম। অবসর সময়ে সাপকে বড় করার সেই খেলাই তখন ফোন ব্যবহারের অন্যতম বিনোদন ছিল। বিভিন্ন রঙের এক্সপ্রেস-অন কভার বদলে ফোনের চেহারাও পাল্টে নেওয়া যেত।

 

এলজি রিউমর টাচ কিবোর্ডের আলাদা মজা

স্মার্টফোনের টাচস্ক্রিন জনপ্রিয় হওয়ার আগের সময়টায় ফিজিক্যাল কিবোর্ড ছিল ফোনের অন্যতম আকর্ষণ। এলজি রিউমর টাচ সেই প্রবণতারই একটি উদাহরণ। এতে টাচস্ক্রিনের পাশাপাশি স্লাইড করে বের করা যেত কিউডব্লিউইআরটিওয়াই কিবোর্ড।

মটোরোলা পিইবিএল: ডিজাইনেই ছিল চমক

সব ফোন যে স্পেসিফিকেশনের জন্য জনপ্রিয় হবে, এমনটা নয়। মটোরোলা পিইবিএল-এর ক্ষেত্রে ডিজাইনই ছিল সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। মসৃণ শরীর, গোলাকার আকৃতি এবং ফ্লিপ মেকানিজম ফোনটিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছিল। চেহারায় ছোট পাথরের মতো নরম, গোলাকার ভাব থাকার কারণেই ‘পিইবিএল’ নামটি বেশ মানানসই ছিল। বিভিন্ন রং ও স্টাইলের কারণে ফ্যাশন সচেতন ব্যবহারকারীদের কাছেও ফোনটি নজর কেড়েছিল।

নোকিয়া ১১০০: সবার নাগালের মোবাইল

বাংলাদেশে পুরোনো মোবাইলের কথা উঠলে নোকিয়া ১১০০-এর নাম না বললেই নয়। ২০০৩ সালে বাজারে আসা এই ফোনটি ছিল সাধারণ ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি। কম দাম, সহজ অপারেশন, শক্তপোক্ত গঠন এবং ভালো ব্যাটারি ব্যাকআপ ছিল এর প্রধান আকর্ষণ। ফোনটির ছোট্ট সাদা-কালো স্ক্রিন, ফিজিক্যাল কিপ্যাড আর উপরে থাকা টর্চলাইট এখনও অনেকের মনে গেঁথে আছে। বিশ্বজুড়ে ২৫ কোটিরও বেশি নোকিয়া ১১০০ বিক্রি হয়েছিল, যা এটিকে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ফোনগুলোর একটিতে পরিণত করেছে।

এরিকসন আর ৩৮০: স্মার্টফোন যুগের একেবারে গোড়ার দিকের ফোন

২০০০ সালে বাজারে আসা এরিকসন আর ৩৮০-কে স্মার্টফোনের প্রাথমিক যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস হিসেবে ধরা হয়। ফোনটির বিশেষত্ব ছিল টাচস্ক্রিন ও স্টাইলাসের ব্যবহার। একইসঙ্গে সাধারণ মোবাইল ফোন এবং পিডিএ-এর বেশ কিছু সুবিধা এতে একত্র করা হয়েছিল। সেই সময়ের তুলনায় এমন নকশা ও প্রযুক্তি ছিল যথেষ্ট অভিনব। ফলে মোবাইল ফোন যে শুধু কল বা মেসেজ পাঠানোর যন্ত্র নয়, ভবিষ্যতে আরও নানা কাজে ব্যবহার করা যাবে আর ৩৮০ অনেকটা সেই ধারণারই ইঙ্গিত দিয়েছিল।

আজকের দিনে স্মার্টফোনে এআই, একাধিক ক্যামেরা, দ্রুত চার্জিং কিংবা ভাঁজ করা ডিসপ্লি নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে। সেই তুলনায় কয়েক দশক আগের ফোনগুলো প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক সাধারণ মনে হতে পারে। কিন্তু মোবাইল প্রযুক্তির বিবর্তনের পথে এই ধরনের ডিভাইসগুলোর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আর ব্যবহারকারীদের স্মৃতিতে এগুলো এখনো রয়ে গেছে এক টুকরো নস্টালজিয়া হয়ে।

কেএসকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *