পটিয়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে মতবিনিময়
চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যেয়র কারণ চিহ্নিত করে উত্তরণের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল নিয়ে কড়া সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে পটিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম। সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দীপন কান্তি দে, পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী আবু তাহের, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক, একাডেমিক সুপারভাইজার বাবুল কান্তি দে, জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মো. বোরহান উদ্দিন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম বলেন, পটিয়ার শিক্ষার্থীরা মেধা ও সম্ভাবনার দিক থেকে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। কিন্তু এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু শিক্ষকদের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে হবে না শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী কি না এবং পাঠদান যথাযথভাবে হচ্ছে কি না এসব বিষয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়মিত তদারকি করতে হবে। ফলাফল বিপর্যেয়র কারণ খুঁজে বের করে আগামী দিনে পটিয়ার শিক্ষার মানকে আরও উন্নত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন একটি প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়। বিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন সম্ভব। নিয়মিত ক্লাস, উপস্থিতি, পাঠদানের মান ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যেবক্ষণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল প্রত্যাশিত হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শুধু ফলাফল প্রকাশের পর আলোচনা নয়, পুরো শিক্ষাবর্ষজুড়ে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পর্যেবক্ষণ করতে হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দীপন কান্তি দে বলেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে শ্রেণিকেন্দ্রিক শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি, শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান এবং অভিভাবকদের সচেতনতা এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
মতবিনিময় সভায় প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, এসএসসি ফলাফল এবং বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি আগামী দিনে ফলাফল উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ দেওয়া হয়।
সভায় বিশেষভাবে বলা হয়, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পটিয়ার সামগ্রিক ফলাফল আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। ফলাফল কেন কমেছে, কোন কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছে এবং কোথায় শিক্ষক-অভিভাবক বা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি রয়েছে তা বিশ্লেষণ করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, পরীক্ষামুখী শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে। এজন্য বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান, সহশিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ এবং অভিভাবকদের সঙ্গে শিক্ষকদের নিয়মিত যোগাযোগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। সভায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান প্রধানরা শিক্ষার মানোন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে আগামী এসএসসি পরীক্ষায় পটিয়ার ফলাফল ঘুরে দাঁড় করাতে এখন থেকেই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কুশল/সাএ
