নেপালের বিপর্যয় ভারতের জন্য বড় সতর্কবার্তা কেন?


নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ শুধু দেশটির জন্যই বিপর্যয় ডেকে আনেনি, এটি ভারতের জন্যও বড় ধরনের সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নেপালের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এবং বন্যাপ্রবণ ভারতের বিহার রাজ্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেপালের হিমালয় থেকে নেমে আসা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদী ভারতের প্রধান নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে রয়েছে গণ্ডকী ও কোসি নদী। এ ছাড়া বাগমতী, কমলা-বালানসহ আরও কয়েকটি নদী নেপাল থেকে ভারতের ঘনবসতিপূর্ণ সমতল এলাকায় প্রবেশ করে।

ফলে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় বড় ধরনের বন্যা বা আকস্মিক পানির ঢল তৈরি হলে তার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলেও পড়তে পারে।

বিহার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে

ভারতের সবচেয়ে বন্যাপ্রবণ রাজ্যগুলোর একটি বিহার। নেপাল ও তিব্বতের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রাজ্যটি এ ধরনের দুর্যোগের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

ভারত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর বিহারের প্রধান নদীগুলোতে পানি সরবরাহ করে এমন বৃষ্টিপাত, ঝরনা ও ছোট নদীগুলোর উৎস এলাকার মাত্র প্রায় ৩৫ শতাংশ বিহারের মধ্যে। বাকি বড় একটি অংশ নেপাল ও তিব্বতের ভূখণ্ডে অবস্থিত।

অর্থাৎ উত্তর বিহারের নদীগুলোর পানিপ্রবাহের ওপর ভারতের বাইরে থাকা পাহাড়ি অঞ্চলগুলোরও বড় প্রভাব রয়েছে।

হিমবাহ ধস থেকে বন্যার ঝুঁকি

বুধবার নেপালে যে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে, সেটিই এই ঝুঁকির বাস্তব উদাহরণ। ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা, পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ নদীপথে নেমে আসে। এতে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

এ ধরনের ঘটনা শুধু নদীতে পানির পরিমাণ বাড়ায় না, এর সঙ্গে বিপুল পরিমাণ পলি বা পলিমাটিও বহন করে নিয়ে আসে।

নদীতে অতিরিক্ত পলি জমলে নদীর তলদেশ ধীরে ধীরে উঁচু হয়ে যায়। এতে নদীর পানি ধারণক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং নদীর বাঁধের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

ফলে হিমালয়ে শুরু হওয়া একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কয়েকশ কিলোমিটার দূরে ভারতের সমতল এলাকায় গিয়ে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

শুধু পানি নয়, পলিও বড় বিপদ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যাকে শুধু পানির প্রবাহ হিসেবে দেখলে ঝুঁকির পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। পাহাড়ি বন্যার সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাটি, বালি, পাথর ও অন্যান্য পলি নিচের দিকে নেমে আসে।

এসব নদীর তলদেশে জমতে থাকলে পানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ে। একই সঙ্গে নদীর বাঁধ ও তীরবর্তী জনবসতিও ঝুঁকিতে পড়ে।

এ কারণেই নেপালের হিমালয় অঞ্চলে কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ হলে তার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় পৌঁছানোর আশঙ্কা থাকে।

নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় তাই শুধু একটি দেশের দুর্যোগ নয়; হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল ভারতের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বিশেষ করে বিহারের মতো বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে আগাম প্রস্তুতি ও সীমান্তপারের দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বয় আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *