অনুশীলনে আলভারেজকে বসিয়ে রাখলো অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, কারণ কী?


বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার গুঞ্জনের মধ্যেই হুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে আরও একবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। শনিবার লা লিগায় সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে খেলতে পারবেন না আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অ্যাটলেটিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে।

শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে সিমিওনে জানান, আলভারেজ টানা তৃতীয় দিনের মতো দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি। ফলে সেভিয়ার বিপক্ষে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কোচ এখনো মনে করেন, এই মৌসুমে অ্যাটলেটিকোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

সিমিওনে বলেন, ‘আমার অবস্থান একই আছে। খেলোয়াড় হিসেবে আমি চাই, যতটা সম্ভব তাকে সাহায্য করতে, যাতে সে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে থাকে। অবশ্যই, হুলিয়ান আগামীকাল খেলতে পারবে না।’

বার্সেলোনায় যাওয়ার ইচ্ছা, বাড়ছে জটিলতা

আলভারেজকে ঘিরে এবারের দলবদলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো তার অ্যাটলেটিকো ছাড়ার সম্ভাবনা। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের ইচ্ছা বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া।

বার্সেলোনার সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাও চলতি সপ্তাহে আলভারেজকে দলে নেওয়ার আগ্রহের কথা আবারও জানিয়েছেন। তবে অ্যাটলেটিকো বিষয়টি একেবারেই মেনে নিতে রাজি নয়।

এর আগে ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বার্সেলোনায় আলভারেজের যাওয়ার ‘শূন্য শতাংশ সম্ভাবনা’ রয়েছে। একই সঙ্গে নিজেদের এই ঘটনায় ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে অ্যাটলেটিকো। ক্লাবের দাবি, পুরো পরিস্থিতির কারণে তারা আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই বিষয়ে সিমিওনে বলেন, ‘হুলিয়ানের পরিস্থিতি নিয়ে ক্লাব তাদের অবস্থান খুব দৃঢ় ও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে। কী ঘটতে যাচ্ছে, সেটিও তারা পরিষ্কার করেছে।’

আলভারেজের অনুপস্থিতি নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে তার অনুশীলনে না ফেরায়। অ্যাটলেটিকো চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিল, বুধবার অসুস্থতার কারণে অনুশীলনে ছিলেন না তিনি।

এর আগে অবশ্য মৌসুমের প্রথম ম্যাচেও দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরেছিলেন আলভারেজ। ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ২-২ গোলের ড্রয়ে দ্বিতীয়ার্ধের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি ফরোয়ার্ড। তবে তার প্রত্যাবর্তনটা মোটেও স্বস্তির ছিল না।

ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে আলভারেজকে দুয়ো শুনতে হয়েছে। ম্যাচের আগে, ম্যাচ চলাকালে এবং ম্যাচ শেষে- তিন পর্যায়েই সমর্থকদের একাংশের কাছ থেকে তাকে বিদ্রূপের শিকার হতে হয়।

ম্যাচ শেষে যখন অ্যাটলেটিকোর অন্য খেলোয়াড়েরা দর্শকদের অভিবাদন জানাতে এগিয়ে যান, আলভারেজকে দেখা যায় একাই মাঠ ছাড়তে। তবে এই পরিস্থিতি থেকেও সম্পর্ক স্বাভাবিক করা সম্ভব বলে মনে করেন সিমিওনে। ‘জীবনে সুস্থতা থাকলে সবকিছুই আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব’- বলেন আর্জেন্টাইন কোচ।

আলভারেজের দলবদল নিয়ে যতই আলোচনা হোক, সিমিওনের পরিকল্পনায় তিনি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। শুধু আলভারেজ নন, চোটের কারণে বাইরে থাকা আলেক্সান্ডার সর্লথকেও তিনি দলের আক্রমণভাগের মূল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন।

গুরুত্বপূর্ণ একজন স্ট্রাইকারের মধ্যে কী ধরনের বৈশিষ্ট্য খোঁজেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সিমিওনের উত্তর ছিল, ‘হুজুলিয়ান আলভারেজ এবং সোরলথের বৈশিষ্ট্য।’

সেভিয়ার বিপক্ষে অবশ্য দুজনকেই পাওয়া যাচ্ছে না। সোরলথ পেশির চোটে মাঠের বাইরে। আলভারেজও অনুশীলনে না ফেরায় তাকে দলে রাখা হয়নি। এ কারণে আক্রমণভাগে বিকল্প সমাধান খুঁজতে হচ্ছে অ্যাটলেটিকোকে। সিমিওনে বলেন, ‘আলভারেজ ও সোরলথকে ছাড়া দল সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন সমাধান খুঁজছে, যা আমাদের গোল করতে সাহায্য করবে।’

দল কি আলভারেজের ঘটনায় প্রভাবিত?

আলভারেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এত আলোচনা দলের মনোযোগে প্রভাব ফেলছে কি না- এমন প্রশ্নও ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। সিমিওনে অবশ্য তা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, না। আমি সেটা দেখছি না। খেলোয়াড়েরা খুব ভালোভাবে কাজ করছে। মালাগা ও ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে আমাদের ভালো ম্যাচ হয়েছে। তারা আগামীকাল ভালো একটি ম্যাচ খেলার দিকেই মনোযোগী।’

অর্থাৎ, আলভারেজকে ঘিরে মাঠের বাইরে যতই টানাপোড়েন থাকুক, দলের ভেতরে সেটির প্রভাব পড়েনি বলেই মনে করছেন অ্যাটলেটিকো কোচ।

আলভারেজের গুরুত্ব শুধু সিমিওনের বক্তব্যেই নয়, তার পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। গত মৌসুমে অ্যাটলেটিকোর হয়ে ৪৯ ম্যাচে ২০ গোল করেছিলেন তিনি।

ম্যানচেস্টার সিটি থেকে অ্যাটলেটিকোতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডকে দলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই দলবদলের শেষ মুহূর্তে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা অ্যাটলেটিকোর জন্যও বড় মাথাব্যথার কারণ।

আইএইচএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *