অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন গ্রেপ্তার
রাজধানীর শাহজাহানপুরে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন মো. অহিদুর রহমানকে (৪৩) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন, মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, নগদ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শাহজাহানপুর থানাধীন ২০ আউটার সার্কুলার রোডের রাজারবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৩ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার এজাহার সূত্রে অহিদুর রহমান আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের অ্যাডমিন হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করেছেন। ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক বেটিং সাইটের প্রচার এবং গ্রাহক সংগ্রহ করতেন তিনি।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে জুয়া পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন, বিকাশে ৮১ হাজার ২১৪ টাকা, নগদে ৫০ হাজার ৪১ টাকা, ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা নগদ, দুটি ব্যক্তিগত সিমকার্ড ও একটি ইয়ামাহা এফজেড ভার্সন-৩ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
র্যাব আরো জানায়, অহিদুরের মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের চ্যাট হিস্টোরি পর্যালোচনা করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে জুয়া ও বেটিং সাইটের প্রচার এবং অবৈধ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি ওই চক্রের একজন ‘সুপার এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাবের দাবি, চক্রটি বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে অনলাইন বেটিং পরিচালনা করত। গ্রাহকদের বেটিংয়ে অংশ নিতে সাইটের নিজস্ব ভার্চুয়াল কারেন্সি বা ‘পিবিইউ’ অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা হতো।
অহিদুরের ব্যবহৃত মোবাইলের ব্রাউজার হিস্টোরি পর্যালোচনা করে একাধিক অনলাইন জুয়া সাইটের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া বেটিংয়ের জন্য গ্রাহক সংগ্রহে দুটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন বলেও জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, এই চক্রের সঙ্গে আরো ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাত সদস্য জড়িত রয়েছে। অনলাইন জুয়া পরিচালনা করে অর্জিত অর্থ দিয়ে চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি ও গাড়িসহ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় জুয়া প্রতিরোধ আইন ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
