অবশেষে বিশ্বকাপে গোল্ডেন বলজয়ী রদ্রিকে দলে নিলো বার্সেলোনা


ম্যানচেস্টার সিটিতে দীর্ঘ সাত বছরের অধ্যায়ের ইতি টেনে বার্সেলোনায় যোগ দিলেন স্পেনের তারকা মিডফিল্ডার রদ্রি। দুই ক্লাবই তার দলবদলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিকভাবে ছয় কোটি ইউরোতে (প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা) বার্সেলোনায় পাড়ি জমিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। চুক্তির বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে আরও এক কোটি ৬৫ লাখ ইউরো যোগ হতে পারে ট্রান্সফার ফিতে।

বার্সেলোনার সঙ্গে চার বছরের চুক্তিতে সই করেছেন রদ্রি। স্পেনের জাতীয় দলের অধিনায়ককে দলে ভেড়াতে আগ্রহী ছিল রিয়াল মাদ্রিদও। তবে তাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বার্সাতেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে ইএসপিএন।

চলতি গ্রীষ্মে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানোর পথে রদ্রির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হয়ে জিতেছেন গোল্ডেন বল পুরস্কার। জাতীয় দলের হয়ে তার নেতৃত্ব ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বার্সেলোনার জন্যও বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে বার্সেলোনা গ্রীষ্মকালীন দলবদলে নতুন করে একজন মিডফিল্ডার কেনার জন্য মরিয়া ছিল না। কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে রদ্রির চুক্তির মেয়াদ যখন শেষের দিকে চলে আসে এবং তার জন্য দরজা খুলে যায়, তখনই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় কাতালান ক্লাবটি।

বিশেষ করে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকায় বার্সেলোনার মাঝমাঠে অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। কোচ হান্সি ফ্লিকও এমন একজন খেলোয়াড় চেয়েছিলেন, যিনি শুধু বল পায়ে দক্ষই নন, মাঠের মধ্যে সতীর্থদের পরিচালনাও করতে পারবেন। রদ্রিকে তাই ‘স্টেটমেন্ট সাইনিং’ হিসেবে দেখছে বার্সেলোনা।

এপ্রিলেই ফ্লিক বলেছিলেন, বড় ম্যাচে মাঠের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো আরও খেলোয়াড় প্রয়োজন বার্সেলোনার। তার ভাষায়, ‘মাঠে আমাদের এমন নেতৃত্ব দরকার। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

ফ্লিকের সেই চাহিদার সঙ্গে রদ্রির গুণাবলি যেন পুরোপুরিই মিলে যায়। মাঠে সতীর্থদের অবস্থান ঠিক করে দেওয়া, কখন চাপ দিতে হবে তা নির্দেশ করা কিংবা দলকে নিয়ন্ত্রণে রাখা- এসব কাজেই রদ্রির দক্ষতা দীর্ঘদিন ধরেই প্রশংসিত।

বার্সেলোনার মাঝমাঠে এখন রদ্রির সঙ্গে থাকছেন পেদ্রি, গাভি, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, মার্ক বার্নাল, দানি ওলমো ও ফেরমিন লোপেজ। এত প্রতিভাবান মিডফিল্ডারের ভিড়ে রদ্রির আগমন দলটির মাঝমাঠকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।

রদ্রির ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু ভিয়ারিয়ালে। পরে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে খেলে ২০১৯ সালে যোগ দেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। এরপর ইতিহাদে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

সিটির হয়ে সাত বছরে প্রায় সব বড় শিরোপাই জিতেছেন রদ্রি। চারবার প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পাশাপাশি ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগও জিতেছেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার গোল ও মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ সিটির সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠেছিল।

ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি স্পেনের হয়েও সাফল্যের চূড়ায় উঠেছেন তিনি। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও বিশ্বকাপ— দুই প্রতিযোগিতাতেই স্পেনের হয়ে শিরোপা জয়ের পাশাপাশি দুটিতেই টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন রদ্রি।

ইউরো জয়ের পর তার ক্যারিয়ারে আসে আরও বড় স্বীকৃতি। ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি। ১৯৬০ সালে লুইস সুয়ারেজের পর প্রথম স্প্যানিশ পুরুষ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জেতেন রদ্রি।

এবার সেই বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা নিয়েই নতুন চ্যালেঞ্জে নামছেন তিনি। ম্যানচেস্টার সিটিতে সাত বছরের সাফল্যময় অধ্যায়ের পর বার্সেলোনায় রদ্রির সামনে লক্ষ্য হবে কাতালান ক্লাবটিকে ঘরোয়া সাফল্যের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অধরা চ্যাম্পিয়নস লিগ ট্রফি জেতানোর লড়াইয়ে আরও শক্তিশালী করা।

তার আগমন তাই শুধু একজন মিডফিল্ডারকে দলে নেওয়া নয়, বার্সেলোনার নতুন প্রকল্পে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও জয়ের মানসিকতা যোগ করার বড় বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আইএইচএস/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *