আদাবরে চাপাতিসহ ‘টিকটক হৃদয়’ ও পাঁচ সহযোগী গ্রেপ্তার


রাজধানীর আদাবরে অভিযান চালিয়ে একাধিক মামলার আসামি হৃদয় ওরফে ‘টিকটক হৃদয়’সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চারটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চুরি ও রিকশা আটকে রেখে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

১ আগস্ট ভোরে আদাবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরুনের নেতৃত্বে শেখেরটেক ও সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় পৃথকভাবে এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেখেরটেক ৭ নম্বর রোডের মাথায় ব্রিজসংলগ্ন প্রেম গলিতে শামসুল মিয়ার রিকশার গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—মিরাজুল ইসলাম (২৫), মো. নিহাদ (২০), মো. শেখ বাচ্চু (৩৫), মো. ফরিদুল ইসলাম (১৯) ও মো. তামিম (১৯)। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাইসহ সাতটি মামলার আসামি রয়েছেন। তারা শেখেরটেক, বাইতুল আমান হাউজিং ও বেড়িবাঁধ এলাকায় সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাই ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

বিশেষ করে রাতে ও সুযোগ বুঝে নির্জন স্থানে পথচারীদের চাপাতির ভয় দেখিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া বিভিন্ন বাসাবাড়ির এসির পাইপ ও বৈদ্যুতিক তার চুরি এবং রিকশার গ্যারেজ থেকে রিকশা নিয়ে পরে মালিকের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই অভিযানের ধারাবাহিকতায় সুনিবিড় হাউজিংয়ের আকন্দ গার্মেন্টস গলির পেছনে অভিযান চালিয়ে হৃদয় ওরফে ‘টিকটক হৃদয়’ (২৫) নামে আরেক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হৃদয় ১০টি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং তার বিরুদ্ধে দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া আদাবর থানার এসআই তরুন বলেন, “গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদাবর ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাই ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে একাধিক মামলার আসামি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিও রয়েছে। অভিযানে চারটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ছিনতাই-চুরিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ছিনতাই, চুরি ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে আমরা প্রশ্রয় দেব না। আদাবরকে একটি নিরাপদ, সুস্থ ও বাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “এ জন্য পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাও প্রয়োজন। কোথাও কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করছি।”





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *