ওসমানীনগরে মৃত্যুফাঁদ: ১৬ দিনে সড়কে ঝরল ১৬ প্রাণ


মাত্র ১৬ দিন। এর মধ্যেই থেমে গেছে ১৬টি প্রাণ। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশ যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। 

গত ৭ আগস্ট ভোরে মুখোমুখি সংঘর্ষ দুটি যাত্রীবাহী বাসের। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৯ জন, পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আরেকজনের।

এক সপ্তাহ না পেরোতেই ১৪ আগস্ট বিকেলে ইলাশপুর এলাকায় মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বাসের ধাক্কায় নিহত হন দুই তরুণ নাজমুল ইসলাম ও আরশ আলী।

২২ আগস্ট ঘটে আরেকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্যাংকলরি। অটোরিকশায় থাকা একই পরিবারের তিনজন—মো. নিয়ামত, তার স্ত্রী উসুফা বেগম ও তাদের পাঁচ বছরের মেয়ে আয়সা এবং অটোরিকশাচালক, ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর মাঝেরবাড়ী গ্রামের মো. ফরিদ মিয়ার ছেলে লালন মিয়া (২৩) ঘটনাস্থলেই মারা যান। 

হাসপাতালের করিডরে দাঁড়িয়ে নিহত নিয়ামতের মামা আব্দুল আওয়াল বলেন, “আমার ভাগনে তার বউ, তাদের মেয়ে তিনজনই শেষ এক দুর্ঘটনায়।”

৭ আগস্টের দুর্ঘটনায় ১০ জনের প্রাণহানির পরদিনই জেলা প্রশাসন পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ অনুসন্ধানের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু, ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও কমিটি এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিনিধিরা। 

পিংকি সাহা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

৭ আগস্টের ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি মামলাও হয়েছে। নিহত সাদমান জাহাঙ্গীর সৌরভের বড় ভাই মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওসমানীনগর থানায় দুটি বাসের চালকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসনও। গত ১৮ আগস্ট সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে অনুমোদনহীনভাবে চলাচলকারী স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এতে লন্ডন এক্সপ্রেস, জেদ্দা পরিবহন, প্যারাডাইস এক্সপ্রেস, ইম্পেরিয়াল এক্সপ্রেস ও বেঙ্গল পরিবহনকে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মিশু বলেছেন, “এই সড়কে ঘন ঘন দুর্ঘটনার প্রধান কারণ প্রশাসনের উদাসীনতা। আমরা কয়েকদিন আগেই মানববন্ধন করে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছিলাম। এগুলো নিয়ে সবাই সভা-সেমিনার করেন, কিন্তু বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই। এই সড়কে বেপরোয়া ওভারটেকিং ও অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের কোনো কার্যক্রমই চোখে পড়ে না। প্রয়োজনে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত অভিযান চালানো এবং সড়ক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *