উত্তরণ-২ বাসে ‘বাস কমিটির দাপট, হুমকি-হেনস্তার শিকার সাংবাদিক 


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) মিরপুরগামী ‘উত্তরণ-২’ বাসে বাস কমিটির নাম ব্যবহার করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও আসন ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে হুমকি ও হেনস্তার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উত্তরণ-২ বাসে ‘বাস কমিটি’র নাম ব্যবহার করে কিছু শিক্ষার্থী নিজেদের ইচ্ছামতো আসন নির্ধারণ করে আসছেন। বাসে ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা আসন রাখার পাশাপাশি কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্যও নির্দিষ্ট আসন বরাদ্দ রাখা হয়। এসব আসন খালি থাকলেও অন্য শিক্ষার্থীরা সেখানে বসতে পারেন না। কেউ বসলে তাকে আসন থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগ রয়েছে, বাসে শিক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রে এ ধরনের অলিখিত নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। এতে আসন খালি থাকা সত্ত্বেও অনেক শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ১৭ আগস্ট সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিডি২৪ লাইভের সাংবাদিক আবুবকর সম্পদকে প্রথমে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। বাসে কে কোথায় বসবে—এটি বাস কমিটি নির্ধারণ করতে পারে কি না, জানতে চাইলে কয়েকজন শিক্ষার্থী তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং হুমকি দেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে বসবে কি না কিংবা আলাদা বসবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাস কমিটি নিতে পারে কি না, এ বিষয়ে প্রশ্ন করায় তাকে ধাক্কা ও গালমন্দ করা হয়।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ ব্যাচের হৃদয়, ২০ ব্যাচের জুবায়েদ ও ২০ ব্যাচের শিহাবসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে।

উত্তরণ-২ বাসের এক শিক্ষার্থী বলেন, “বাস কমিটির সদস্যদের জন্য আলাদা আসন রাখা হয়। কোনো ছেলে ও মেয়ে সাধারণ বন্ধু হিসেবে পাশাপাশি বসলেও তাঁদের নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। আমার সঙ্গেও একদিন এমন ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এ ধরনের একটি ঘটনায় এক নারী শিক্ষার্থীকে কান্না করতে দেখেছি। এছাড়া জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে সিনিয়রদের অপমান ও হেনস্তা করার ঘটনাও ঘটে। এ ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীরাও ছাড় পান না।”

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) পরিবহন সম্পাদক মাহিদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই। বাসে যে যার মতো বসতে পারে। তারা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তবে কারও ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে না। আর সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া খুবই জঘন্য কাজ। এ বিষয়ে প্রক্টর অফিসে অভিযোগ জানানো হলে প্রক্টর স্যার নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে কে কোথায় বসবে, তা কেউ নির্ধারণ করতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসন থেকে কাউকে এমন কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেকোনো বাসে যেকোনো সময় যাতায়াত করতে পারে। এ ধরনের হয়রানির অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।”



কুশল/সাএ





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *