একটি বিড়ালকে আটক করতে লাগল তিন বছর
উত্তরটা লুকিয়ে আছে বিড়ালের স্বভাবে। নিউজিল্যান্ডের বেশির ভাগ বুনো বিড়াল এসেছে উত্তর আফ্রিকার শিকারি বিড়ালের বংশ থেকে। শিকার এদের রক্তে।
নাইন লাইভস কখনো একই জায়গায় দুইবার ফাঁদের কাছে আসত না। আবহাওয়া বদলাত, চাঁদের আলো বদলাত, আর সে বদলে ফেলত নিজের পথ। মেন্টর বলছিলেন, রাতের পর রাত অপেক্ষা করেও কিছু মেলেনি বহুবার। জঙ্গলে বসে থাকা, নিঃশব্দে, ঠান্ডায়। অথচ বিড়ালটা যেন জানত কখন কোথায় ক্যামেরা বসানো হয়েছে।
এই লড়াই এত কৌতূহল উদ্দীপক হয়ে উঠেছিল, সিএনএনের একটা দল এ বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিল প্রামাণ্যচিত্র বানাতে। রেডিও পডকাস্টেও জায়গা পেয়েছিল নাইন লাইভসের গল্প। একটা বিড়াল, অথচ তাকে ঘিরে এত আয়োজন। অবাক লাগতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রকৃতিতে একটি মাত্র শিকারি প্রাণীও পুরো বাস্তুতন্ত্র ওলট–পালট করে দিতে পারে। বিশেষত সেই বাস্তুতন্ত্র যদি হয় দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন, ভঙ্গুর।
তিন বছর ধরে চলল লুকোচুরি। ফাঁদের ধরন বদলানো হলো বারবার। টোপ বদলানো হলো। ক্যামেরার নেটওয়ার্ক বাড়ানো হলো ধীরে ধীরে, যতক্ষণ না পুরো এলাকা ঢেকে গেল নজরদারিতে। তারপর এল সেই রাত। দিনটা ছিল বৃহস্পতিবার। নাইন লাইভস ফিরে এল একই জায়গায়। টানা তৃতীয় রাতের মতো। এমনটা সে আগে কখনো করেনি।
সেই সুযোগেই কাজ সারলেন সংরক্ষণকর্মীরা।
