এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ খেলবে ‘গামিনির’ উইকেটে


এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের একমাত্র সোনা এসেছিল ক্রিকেট থেকেই। ২০১০ সালের সেই সাফল্যের পর কেটে গেছে দেড় দশকেরও বেশি সময়। এবার আইচি-নাগোয়ায় সেই স্বর্ণ জয়ের পুনরাবৃত্তিই করতে চায় বাংলাদেশ। তবে সোনা জয়ের মিশনে নামার আগে বাংলাদেশের জন্য ধাঁধার নাম জাপানের উইকেট!

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই রসিকতার সুরে উত্তর দেন পুরুষ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ‘উইকেট নিয়ে কোনো ধারণা নেই, কিন্তু কে বানিয়েছে জানি।’ তাঁর কথায় হাসির রোল পড়ে সংবাদ সম্মেলনে।

কারণটা অবশ্য বেশ পরিচিত। আইচি-নাগোয়ার কো রোগি স্পোর্টস পার্কে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয়েছে ক্রিকেটের মাঠ। সেখানে হাইব্রিড পিচ প্রস্তুত করছেন শ্রীলঙ্কান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা। যিনি দীর্ঘদিন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর ছিলেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে তাই গামিনি অপরিচিত কেউ নন।

তবে পরিচিত কিউরেটর মানেই পরিচিত উইকেট নয়। সেটিই পরিষ্কার করেছেন সালাউদ্দিন। তাঁর ভাষায়, ‘একেক দেশের আবহাওয়া একেক রকম। আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করবে আসলে উইকেটটা কী রকম হবে। গামিনিকে দোষ দিয়ে তো লাভ নেই। আমরা আসলে নিজেরাই বানাতে বলতাম এই ধরনের উইকেট।’

বাংলাদেশের জন্য অবশ্য একটি বাড়তি সুবিধা থাকছে। এই ব্যাপারে সালাউদ্দিনের বলেন, ‘একটা সুবিধা আছে। মেয়েরা আগে খেলবে, মেয়েদের থেকে অনেক তথ্য পাব উইকেট-মাঠ কেমন হবে। মেয়েদের খেলা শেষ হলে ছেলেরা খেলবে।’

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট থাকায় দেশের প্রত্যাশার চাপটাও বুঝতে পারছেন সালাউদ্দিন। এবার ছেলে-মেয়ে দুই দলই যাচ্ছে পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে। পুরুষদের নেতৃত্বে লিটন দাস। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশও সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে। পুরুষদের ক্রিকেট শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর; বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল ২৮ সেপ্টেম্বর।

এশিয়ান গেমস নিয়ে সালাউদ্দিনের নিজের লক্ষ্যের কথা জানাতে ভুল করলেন না, ‘যেহেতু খেলতে যাচ্ছি, এখানে আসলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চিন্তা করা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।’

তবে পথটা সহজ হবে না। এবার ভারতসহ বেশ কয়েকটি দলই মূল দল নিয়ে এশিয়ান গেমসে এসেছে। দীর্ঘদিন টি-টোয়েন্টি না খেলার কারণে দ্রুত সংস্করণটির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকেই নিজেদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন বাংলাদেশের কোচ সালাউদ্দিন, ‘কয়েকটি সিরিজ ধরে আমরা টি-টোয়েন্টি খেলছিলাম না। টি-টোয়েন্টির সঙ্গে কত তাড়াতাড়ি মানিয়ে নিতে পারি, ছন্দটা আমরা কত তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনতে পারি। ছেলেদের এই একটাই বড় চ্যালেঞ্জ আছে।’

২০১০ সালে গুয়াংজুতে সোনা জয়ের পর ২০১৪ ও ২০২৩ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ জিতেছে ব্রোঞ্জ। এবার লক্ষ্য আর ব্রোঞ্জ নয়। জাপানের অচেনা উইকেট, নতুন পরিবেশ আর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ পেরিয়ে সেই পুরোনো সোনার গল্পটাই নতুন করে লিখতে চায় বাংলাদেশ।

 





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *