কক্সবাজারের রিসোর্টে চীন-তাইওয়ানের নাগরিকদের ঘিরে রহস্য


কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের একটি রিসোর্টে চীন ও তাইওয়ানের নাগরিকদের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে গত ২৬ অগাস্ট অনুসন্ধান চালান গোয়েন্দারা।

সেদিনই ঘটনাস্থলে যায় চীনা দূতাবাসের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

পুলিশ বলছে, দূতাবাসের প্রতিনিধিরা রিসোর্টের কম্পিউটার ল্যাব, সাউন্ডপ্রুফ কক্ষ এবং বিদেশি নাগরিকদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। সেখানে থাকা চীন ও তাইওয়ানের নাগরিকেরা প্রতারণা ও অনলাইন ভিত্তিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে মৌখিকভাবে মত দেন তারা।

এরপর বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার শহরের দুটি হোটেল থেকে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শুক্রবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের করা মামলায় আসামির তালিকায় ১০ জনের নাম রয়েছে। অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামি করা হয় চীন ও তাইওয়ানের ২৫০ থেকে ৩০০ নাগরিককে।

পুলিশ বলছে, শুধু এই ছয়জনই নয়, এই দলে আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জন চীন ও তাইওয়ানের নাগরিক রয়েছেন। তবে এখন তাদের একটি অংশ কক্সবাজারে নেই বলেই ধারণা করছে পুলিশ।

যেভাবে রিসোর্টে থাকেন চীনা নাগরিকরা

মেরীনা বিচ ভিলা রিসোর্টের কর্মী মো. সেলিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিদেশি নাগরিকদের একটি দল প্রায় তিন মাস আগে তাদের রিসোর্র্টে আসে।

“তারা যে কক্ষগুলো ভাড়া নিয়েছিলেন, সেগুলোতে আমাদের যাওয়ার অনুমতি ছিল না।”

সেলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, তারা চলাচলও করত অনেকটা আড়ালে। তারা গাড়িতে করে যাতায়াত করতেন এবং গাড়ি থেকে এমনভাবে ওঠানামা করতেন যে, তাদের চেহারা সহজে বোঝা যেত না।

রিসোর্টের আরেক কর্মী আবু বকর বলেন, সেখানে ৫০ জনের মতো বিদেশি নাগরিক ছিলেন এবং তারা প্রায় ৪৫টি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন।

তার ভাষ্য, তাদের দৈনন্দিন বাজারও নিজেদের লোক দিয়ে করানো হতো। রান্নার জন্য তারা চীনের নাগরিকও নিয়ে এসেছিলেন।

“বাংলাদেশি কারও যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল,” বলেন আবু বকর।

মেরিন ড্রাইভ এলাকার হোটেল অর্কিড ব্লুর মালিক এ বি এস মিজান বলেন, তাদের হোটেলে চায়নিজ নাগরিকদের প্রায় ৬০ জনের একটি দল ছিল। তারা হোটেলটির ২৫টি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন এবং ছয় মাসের জন্য কক্ষগুলো বুকিং দেওয়া হয়েছিল।

তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই ২৬ অগাস্ট তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। সে সময় পর্যন্ত তাদের অবস্থানের মেয়াদ ছিল প্রায় সাড়ে চার মাস।

মিজান বলেন, বিদেশি নাগরিকেরা নিজেদের খাবারের জন্য আলাদা রাঁধুনি সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন।

এদিকে মেরিন ড্রাইভের ড্রিম হলিডে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষও তাদের হোটেলে চীনা নাগরিকদের অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছে। তবে তাদের অবস্থান, কক্ষ বুকিং কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।

রামু থানার ওসি এ কে ফজলুল হক বলেন, অভিযানের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারেন।

তাদের অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “এটা আমাদের বিষয় এবং এসব বিষয়ে আমাদের কাজ অব্যাহত আছে।”

আরও গ্রেপ্তার হতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা ঘটনার সঙ্গে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *