কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির পরিচয়


এক রাতের আগুনে সব শেষ। প্রাণ গেলো সাত বাংলাদেশির। ঘটনাস্থল কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ বলে পরিচিত নিউমার্কেট এলাকা।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে নিউমার্কেটের ১৫, মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে। ‘শিখা ইন’ নামের ওই হোটেলে আগুনে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতীয় নাগরিক।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই ভারতীয় হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান (১৯) ও শিলিগুড়ির যোগী নারায়ণ (৬৮)।

নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছেন একই পরিবারের চারজন। তারা হলেন কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত ও দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলি (৬৪)। বাকি তিন বাংলাদেশি হলেন ঢাকার সাভারের বাবু আহমেদ (৩৭) এবং সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের রেবতী সরকার ও এস এম আলিমুজ্জামান। তাদের কেউ এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে, কেউ ঘুরতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পাঁচতলা ভবনের আবাসিক হোটেলের তিনতলায় আগুন লাগে। এরপরই কালো ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। তবে, এর আগেই তিনতলার অংশ আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হোটেলটির প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সংকীর্ণ থাকায় অনেকেই ভেতরে আটকে পড়েন। 

ঘটনার সময় তিনতলার আবাসিকরা অনেকেই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে বেঁচে ফিরতে পারেননি। বাকি অংশের পর্যটকরা ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে জেগে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেন। অনেকে পাঁচতলার ছাদে উঠে যান, কেউ আবার নিচে নেমে রাস্তায় চলে আসেন। অবশ্য মুহূর্তের মধ্যেই পাশে থাকা ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ফায়ার সার্ভিস সদর কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকটি গাড়ি ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। সেই সঙ্গে খবর পেয়ে আসে স্থানীয় নিউ মার্কেট, পার্ক স্ট্রিট ও তালতলা থানার পুলিশ।

একে একে উদ্ধার করা হয় ৬০ থেকে ৭০ জনকে। তাদের মধ্যে আহতদের স্থানীয় কলকাতা মেডিকেল কলেজ, নীল রতন সরকারসহ অন্যান্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের সবাইকেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

ডিডি/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *