কোক স্টুডিওর শুটিংয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার ক্ষতির অভিযোগ, ফাউন্ডেশনের অস্বীকার


সোনারগাঁয়ের ঐতিহাসিক বড় সরদারবাড়িতে কোক স্টুডিও বাংলার শুটিংয়ের সময় স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি। তবে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, নীতিমালা মেনেই শুটিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ঐতিহাসিক বড় সরদারবাড়িতে কোক স্টুডিও বাংলার শুটিংয়ের সময় স্থাপনাটির ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি এ অভিযোগ করেছে। শুটিংয়ের অনুমোদন, ফাউন্ডেশনের অর্থপ্রাপ্তি এবং শুটিংয়ের আগে ও পরের অবস্থার নথি প্রকাশেরও দাবি করেছে সংগঠনটি।

শনিবার নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবিগুলো তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস।

তিনি বলেন, সম্প্রতি চার দিন ধরে বড় সরদারবাড়িতে কোক স্টুডিও বাংলা সিজন ৪-এর ভিডিও ধারণ ও কোকা-কোলার বিজ্ঞাপনের শুটিং হয়েছে। এ সময় জেনারেটর, ভারী ক্যামেরা, আলোকসজ্জা ও সাউন্ড সিস্টেমসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। এতে শুটিংয়ের পর বড় সরদারবাড়ির দেয়াল, অলংকরণ ও নকশার বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দ্বিতীয় আঙিনার কাছেও একটি অংশ ভেঙে গেছে। তাঁর ভাষায়, “বড় সরদারবাড়ি একটি প্রত্নসম্পদ। শত বছরের পুরোনো এ স্থাপনার চুন-সুরকি, ইট, কাঠ, প্লাস্টার, মেঝে ও অলংকরণ খুবই সংবেদনশীল।”

সংগঠনটির দাবি, শুটিংয়ের আগে কোনো ‘হেরিটেজ ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট’ করা হয়েছিল কি না এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেসব তথ্য প্রকাশ করতে হবে।

অভিযোগ অস্বীকার ফাউন্ডেশনের

অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, “বাণিজ্যিক শুটিংয়ের নীতিমালা মেনে কোক স্টুডিও বাংলাকে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। বড় সরদারবাড়ির কোনো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।”

তবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও

সংবাদ সম্মেলনে লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়। কারুপল্লীর দোকান বরাদ্দ, সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন, স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা, বড় সরদারবাড়ি মেরামতের নামে ভুয়া বিল তৈরি, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া অর্থ ব্যয় এবং বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়।

এসব অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানায় সংগঠনটি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থের ক্ষতি হয়ে থাকলে তা ফেরত নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক কাজী মাহবুবুল আলম বলেন, “কারুশিল্প ফাউন্ডেশন একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। এখানের বাজেট থেকে দরকারি কাজেই খরচ করা হয়। খরচের হিসাব-নিকেশ রয়েছে।”

কোক স্টুডিওর প্রতিক্রিয়া মেলেনি

স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্তের অভিযোগের বিষয়ে জানতে কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ মৌসুমের গানের মিউজিক কিউরেটর শায়ান চৌধুরী অর্ণবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

কোক স্টুডিও বাংলার জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা মিলন বলেন, বিষয়টি অর্ণবকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তারা কিছুটা সময় চেয়েছেন।

জানা গেছে, অর্ণব বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে তাঁর একটি গানের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক কবি রহমান মুজিব, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল এবং সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতনের শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মোয়াজ্জেনুল হক উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *