কোন পথে বাংলা কবিতা | প্রথম আলো


ফেসবুক-কবিতার ভাষা সাধারণত সহজ, সরাসরি ও আবেগঘন। প্রেম, বিরহ, একাকিত্ব, সামাজিক অন্যায়, রাজনৈতিক ক্ষোভ—এই বিষয়গুলো নিয়ে ছোট ছোট পঙ্‌ক্তিতে লেখা কবিতাগুলো দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। কিছু কবি এই মাধ্যমেই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে পরবর্তী সময়ে বই প্রকাশ করেছেন এবং সেই বই বেস্টসেলারের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে, যা প্রথাগত প্রকাশনাজগতের জন্য একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। বইমেলায় এখন এমন অনেক তরুণ কবির স্টলে দীর্ঘ লাইন দেখা যায়, যাঁদের নাম প্রথাগত সমালোচক-মহল আগে কখনো শোনেননি।

এই দুই ধারার সংঘাতের মূল কেন্দ্রে আছে একটি প্রশ্ন—কবিতার ‘মান’ কে নির্ধারণ করবে? প্রথাগত সাহিত্য-বলয় মনে করে, কবিতার মান নির্ধারিত হওয়া উচিত সম্পাদক, সমালোচক ও বিদগ্ধ পাঠকদের দ্বারা—যাঁরা ভাষা, ছন্দ, চিত্রকল্প ও গভীরতার নিরিখে একটি কবিতাকে যাচাই করেন। অন্যদিকে ফেসবুককেন্দ্রিক কবিতার জগতে মান নির্ধারিত হয় লাইক, শেয়ার আর মন্তব্যের সংখ্যা দিয়ে—অর্থাৎ পাঠকের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াই এখানে চূড়ান্ত বিচারক। এই দুই মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। একটি কবিতা যা অ্যালগরিদমের কারণে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা অগত্যা সাহিত্যিক গুণে সমৃদ্ধ না–ও হতে পারে—আবার একটি নিরীক্ষাধর্মী, জটিল কবিতা, যা সাহিত্য পত্রিকায় প্রশংসিত হয়, তা হয়তো সাধারণ পাঠকের কাছে কখনোই পৌঁছাবে না। ফলে ভালো কবিতা বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, তা নিয়েই এখন দুই শিবিরের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব তৈরি হয়েছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *