গিনিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে ৩০ জন নিহত


পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে আবর্জনার বিশাল স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন।

রোববার রাতে ভারী বৃষ্টির মধ্যে আবর্জনার স্তূপ ধসে কাছাকাছি থাকা তাঁবু ও ঝুপড়িগুলো চাপা পড়লে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

দেশটির সরকার জানিয়েছে, রোববার রাত প্রায় ২টার দিকে কোনাক্রির গ্বেসিয়া কমিউনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৩০ জন নিহত, ছয়জন গুরুতর আহত এবং আরও ১৬ জন সামান্য আহত হয়েছেন।

উদ্ধারকারীরা খননযন্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধসে পড়া আবর্জনার স্তূপটি এতটাই বিশাল ছিল যে এর নিচে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনসহ আরও অনেক বসতবাড়ি চাপা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

ঘটনার পর ঘটনাস্থলে সির দিয়ালো নামে এক নারী জানান, তিনি তাঁর পাঁচ সন্তানকে হারিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি আমার সব সন্তানকে হারিয়েছি। এখন আমি যা করতে পারি তা হল খোদার ওপর বিশ্বাস রাখা।”

গিনির প্রধানমন্ত্রী আমাদু ওউরি বাহ রোববার বর্জ্যাগারটিতে গিয়ে দুর্ঘটনাস্থর পরিদর্শন করেন এবং ক্ষয়ক্ষতি প্রত্যক্ষ করেন।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মাত্র এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে সরকার বর্ষাকালে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা এই বর্জ্যাগারটি বন্ধ করে আবর্জনা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

গিনির স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জেনাব তুরে বৃহস্পতিবার জানিয়েছিলেন, বর্জ্যাগারটি অনিরাপদ হয়ে ওঠায় এটি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কোনাক্রির বাইরে আবর্জনা সরিয়ে নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।

রয়টার্স জানিয়েছে, পশ্চিম আফ্রিকার অনুন্নত ও জনাকীর্ণ শহরগুলোতে প্রতিবছর বর্ষাকালে ভূমিধস ও প্রাণঘাতী বন্যার ঘটনা ঘটে।

প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও গিনির অবকাঠামো দুর্বল এবং দেশটিতে ব্যাপক দারিদ্র রয়েছে। দেশটিতে বিশ্বের বৃহত্তম বক্সাইটের মজুদ রয়েছে। এছাড়া সিমান্দুতে রয়েছে সমৃদ্ধ লৌহ আকরিকের ভাণ্ডার। সেখানে নভেম্বরে একটি বড় খনি প্রকল্প শুরু করা হয়েছে।

বিশ্ব ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গিনির এক কোটি ৫১ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৩৭ লাখ মানুষের দৈনিক আয় প্রায় ৫০০ টাকার মতো।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *