বিশ্বাসের অংশীদার থেকে প্রবৃদ্ধির অংশীদার: বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়
ব্যবসা পরিবেশেও কয়েকটি নীতিগত পদক্ষেপ দ্রুত ফল দিতে পারে। প্রথমত, জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিডা, বেজা, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ‘জাপান ইনভেস্টমেন্ট ফাস্ট ট্র্যাক’ দরকার। দ্বিতীয়ত, কর-শুল্ক ও বিনিয়োগনীতিতে পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আগে পরামর্শ, যুক্তিসংগত রূপান্তরকাল এবং বিদ্যমান বিনিয়োগের বৈধ অধিকার সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, বাণিজ্যিক বিরোধ ও সরকারি চুক্তির বিষয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সময়সীমা ধরে সমাধানের ব্যবস্থা গড়তে হবে। চতুর্থত, ইপিএ বাস্তবায়নের জন্য পৃথক সেল গঠন করে পণ্যের মান, রুলস অব অরিজিন, কাস্টমস, সেবা বাণিজ্য ও রপ্তানিকারকদের প্রস্তুতি একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। পঞ্চমত, বাংলাদেশকে শুধু সস্তা শ্রমের গন্তব্য হিসেবে নয়, দক্ষতা ও প্রযুক্তির অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জাপানি ভাষা, শিল্পের নিরাপত্তা, মেকাট্রনিকস, ওয়েল্ডিং, কোল্ডচেইন, স্বাস্থ্যসেবা, আইটি ও মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় যৌথ প্রশিক্ষণকেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাপানি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব প্রয়োজন। একই সঙ্গে যোগ্য বাংলাদেশি এসএমইকে জাপানি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহশৃঙ্খলে যুক্ত করতে মান, অর্থায়ন ও সনদ অর্জনে সহায়তা দিতে হবে। তাতে বিনিয়োগের সুফল স্থানীয় অর্থনীতিতে বহুগুণ বাড়বে।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ, এখন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকেও সেই মানে নিতে হবে। জাপানি ব্যবসায়িক সংস্কৃতিতে আস্থা তৈরি হতে সময় লাগে, কিন্তু একবার তৈরি হলে সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয়। আবার অনিশ্চয়তা দীর্ঘ হলে তারা উচ্চকণ্ঠ না হয়েই অন্য গন্তব্য বেছে নিতে পারে। তাই প্রতিযোগিতা শুধু প্রণোদনার নয়, বিশ্বাসযোগ্য বাস্তবায়নের। ভিয়েতনাম, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য দেশ জাপানি বিনিয়োগের জন্য দ্রুত এগোচ্ছে। বাংলাদেশকে নিজের শক্তিকে সিদ্ধান্তের গতিতে রূপান্তর করতে হবে।
