জিয়া স্মৃতি বইমেলা উদ্বোধন করলেন ডা. জুবাইদা রহমান


জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে ও শহরের বিভিন্ন স্থানে পাঠাগার গড়ে উঠুক এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হোক। তিনি বলেন, বই পড়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে মূল্যবোধ, ন্যায়পরায়ণতা, সততা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের বিকাশ ঘটবে।

‎‎বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‎‎ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বই পড়ার অভ্যাস মানুষের মধ্যে সহনশীলতা, সহমর্মিতা এবং অন্যকে সম্মান করার প্রবণতা বাড়াবে। বর্তমান শিশু-কিশোররা ধৈর্যশীল মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে।

‎‎বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনী নিয়ে লেখা বইগুলোতে তাদের সংগ্রাম, ত্যাগ, তিতিক্ষা, ধৈর্য, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের কথা উঠে এসেছে। তাদের আদর্শ ও দিকনির্দেশনা আমাদের চলার পথের পাথেয়।

বক্তব্যের শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির উদ্দেশ্যে লেখা নিজের কবিতা ‘তুমি নির্ভীক’ আবৃত্তি করেন ডা. জুবাইদা রহমান।

‎‎অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচকের বক্তব্যে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, দেশের পাঠাগারগুলো এখনো অবহেলিত। এতে প্রমাণ করে আমরা জাতি হিসেবে মার্জিত ও রুচিশীল হতে পারিনি। তিনি বলেন, শৈশব থেকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে না উঠলে সুন্দর মানুষ ও সুন্দর মনন তৈরি হবে না, আমাদের মধ্যে থাকা কুসংস্কার ও দীনতা দূর হবে না। তিনি দেশের পাঠাগারগুলোকে কার্যকর ও পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

মাহবুব উল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমি গ্লানিবোধ করি। কারণ, আমাদের সহকর্মীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস কমে গেছে। এই পাঠাভ্যাস বাড়াতে হবে। আগে আমাদের মা খালারা বই পড়তেন। ঘরে বই পড়ার সংস্কৃতি ছিল। এটাও কমে গেছে। ফলে আমাদের সন্তানরাও বই পড়ায় অভ্যস্থ হচ্ছে না। জাতিকে এই অবস্থার থেকে উত্তরণ করতে হলে পুঁজি নয়, ডলার নয়; দরকার জ্ঞান চর্চায় আগ্রহী করা তোলা।

‎বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির কারণে মানুষের বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। অথচ বই মানুষের জ্ঞানকে আলোকিত করে এবং মেধাকে শাণিত করে। এ চিন্তা থেকে বইমেলা হচ্ছে। এটা খুবই ইতিবাচক খবর।

‎‎জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কবি হাসান হাফিজ আবারও দেশব্যাপী বইমেলা আয়োজনের প্রস্তাব দেন। ‎‎জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদদস্য প্রফেসর ফরহাদ ডোনার ডানার, মেলার আহবায়ক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারিসহ অন্যরা।

আবৃত্তিশিল্পী টিটু মুন্সি অনুষ্ঠানে নজরুলের বিদ্রোহী কবিতা আবৃত্তি করেন শোনান। অনুষ্ঠানে শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে নিয়ে প্রকাশিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এর আগে ছাড়া যশোর জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও মানিকগঞ্জ জিয়া স্মৃতি পাঠাগারকে শ্রেষ্ঠ পাঠাগার হিসেবে সম্মাননা তুলে দেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ডা. জুবাইয়দা রহমান। ‎‎আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে ডা. জুবাইদা রহমান বইমেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং প্রকাশিত বই সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশের ৪৮ টি প্রকাশনা সংস্থা নিয়ে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার কেন্দ্রীয় কমিটি ৯ দিনব্যাপী এই বইমেলা শুরু করেছে। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮টা অব্দি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ মেলা এবং ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।


বাংলাদেশ জার্নাল/জে





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *