দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আকাশ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আলোকিত হবে: ডিসি জাহিদ
চোখে পৃথিবীর আলো দেখতে পান না আকাশ দাস। তবে থেমে নেই তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। প্রযুক্তির সহায়তায় পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের এই শিক্ষার্থী।
প্রয়োজনীয় স্মার্টফোন কেনার সামর্থ্য না থাকায় পড়াশোনায় কিছুটা সমস্যায় ছিলেন তিনি। বিষয়টি জানতে পেরে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নিজের কার্যালয়ে আকাশের হাতে একটি নতুন স্মার্টফোন তুলে দেন জেলা প্রশাসক।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আকাশ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আলোকিত হবে।
আকাশ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতক চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ব্রেইল পাঠ্যপুস্তকের অপ্রতুলতার কারণে পড়াশোনায় তাকে অডিও রেকর্ডিং ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয়।
শ্রেণিকক্ষের লেকচার রেকর্ড করা, স্ক্রিন রিডারের মাধ্যমে পাঠ্যবিষয় শোনা, অডিও শুনে পড়াশোনা এবং প্রয়োজনীয় বই ও গবেষণাপত্র খুঁজে বের করার কাজে স্মার্টফোন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ।
কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় স্মার্টফোন কিনতে পারছিলেন না আকাশ। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন তিনি। আবেদনটি পাওয়ার পর তার প্রয়োজন ও পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়।
সেখানে আকাশের সঙ্গে কথা বলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তার পড়াশোনা ও পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি জেলা প্রশাসক জানতে চান, আজ কী পরীক্ষা ছিল? পরীক্ষা কেমন হয়েছে?
কথোপকথনের একপর্যায়ে আকাশের হাতে নতুন স্মার্টফোন তুলে দেন জেলা প্রশাসক। এরপর তিনি জানতে চান, মোবাইলটি পেয়ে খুশি তো?
স্মার্টফোন পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আকাশ। তিনি জানান, নতুন ফোনটি দিয়ে ক্লাসের লেকচার রেকর্ড করা, অডিও শুনে পড়াশোনা, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী ও গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা স্মার্টফোনের স্ক্রিন রিডার ও ভয়েস কমান্ডের মতো সুবিধা ব্যবহার করে ডিজিটাল লেখা শুনতে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে নিতে পারেন। ফলে নতুন এই ডিভাইসটি আকাশের উচ্চশিক্ষার পথ কিছুটা সহজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চোখে দেখতে না পেলেও সমাজতত্ত্বে উচ্চশিক্ষা শেষ করার স্বপ্ন দেখেন আকাশ। একটি স্মার্টফোন তার জীবনের সব বাধা দূর করবে না, তবে জ্ঞান অর্জনের পথকে আরও সহজ করে দিতে পারে। জেলা প্রশাসকের ভাষায়, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আকাশ প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আলোকিত হবে।
এমআরএএইচ/ইএ
