নেপালের ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে আছে ৯৩৩ কর্মী
হিমবাহ ধসের পর জোরদার উদ্ধার
নেপাল-চীনে মৃত ৯১৯, নিখোঁজ হাজারো
জার্নাল ডেস্ক
কিওয়ার্ড:
হিমালয় সীমান্তে ভয়াবহ প্লাবনের পর নেপালের ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৯৩৩ কর্মীকে উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চীন ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় চলা এ অভিযানের মধ্যেই নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯১৯ জনে পৌঁছেছে।
হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে প্রলয়ঙ্করী প্লাবনের পর নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৯ শতাধিক কর্মীকে উদ্ধারে সোমবার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
চীন ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এই উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে বরফ, কাদা ও পাথরের যে বিধ্বংসী ঢল নেমেছিল, তাতে সোমবার পর্যন্ত নেপালে ৯০৩ জন এবং চীনের তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুই দেশ মিলিয়ে এখনও প্রায় পৌনে পাঁচ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা শত শত পচতে শুরু করা মরদেহ সমতলের অগভীর কবরে দাফন করা হচ্ছে।
নেপাল সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের মূল নজর এখন সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুই জেলা রসুয়া ও নুওয়াকোটের ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৯৩৩ জন কর্মী ও প্রকৌশলীকে উদ্ধারের কাজে, যারা ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে রয়েছেন।
সুড়ঙ্গগুলোতে জমে থাকা ভারি কাদা ও পাথরের স্তূপ সরাতে সুনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ, এক্সকাভেটর ও সার্চলাইট ব্যবহার করছে সেনাবাহিনী।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত রয়টার্সকে বলেন, “প্রচুর পরিমাণে ধ্বংসাবশেষ জমে রয়েছে, যা সুড়ঙ্গগুলো খোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
রোববার রাতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই বন্যাকে “নজিরবিহীন ও প্রলয়ঙ্করী প্রাকৃতিক বিপর্যয়” হিসেবে বর্ণনা করে জানান, দুর্গম ভূপ্রকৃতি সত্ত্বেও ২১ হাজারের বেশি সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধার অভিযানে কাজ করছেন।
অন্যদিকে, চীন জানিয়েছে তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিকও আছেন।
সেখানে ২ হাজার ১০০-র বেশি উদ্ধারকারী মোতায়েন করা হয়েছে এবং ত্রাণ তহবিলে ২২ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রেড ক্রস জানিয়েছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৯০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, হিমবাহ ধসের স্থানে গঠিত কৃত্রিম গহ্বরটি বড় হয়ে শনিবার সন্ধ্যা নাগাদ ১ লাখ ৭৪ হাজার বর্গমিটারে পৌঁছেছে, যেখানে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমে আছে। এর বাঁধ ভেঙে গেলে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বড় ধরনের প্লাবন হতে পারে।
এদিকে, দুর্যোগের পর নদী ও হিমবাহের তথ্য চীন সময়মতো শেয়ার করছে না বলে অভিযোগ করেছেন নেপালের দুজন কর্মকর্তা।
তবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, তারা নেপালকে নিয়মিত আবহাওয়া ও জলবিদ্যুৎ-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে আসছে এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় কাঠমান্ডুকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম
