প্রবাসীর স্বর্ণালংকার ছিনতাই: ছাত্রদল সভাপতি ও সম্পাদকসহ গ্রেপ্তার ৩
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এক প্রবাসীর ভাইয়ের কাছ থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন (২৭), সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত (২৭) এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ (৪০)। এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার রাতে ও রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক বেগ। তিনি বলেন, এক প্রবাসীর ভাইয়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ আগস্ট মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি বিমানবন্দর থানায় মামলাটি করেন। মামলা নম্বর ৪৬। এতে আব্দুর রউফকে ১ নম্বর, রিপনকে ২ নম্বর, আল-আমিন শান্তকে ৩ নম্বর এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়া প্রবাসী। পরিবারের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গত ২৮ আগস্ট তিনি মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠান।
পরে বাদী তার বন্ধু রোহান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ওই স্বর্ণালংকার সংগ্রহ করেন। ১০০ গ্রাম স্বর্ণ তার কাছে এবং বাকি ১০০ গ্রাম তার বন্ধু রোহানের কাছে ছিল। এরপর তারা ভাড়া করা একটি হায়েস গাড়িতে করে বিমানবন্দর এলাকা থেকে বের হন।
এজাহারে আরও বলা হয়, রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দর থানার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে পৌঁছালে আসামিরা তাদের পথরোধ করেন। এ সময় তারা নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি কাছে বোমা রয়েছে বলে ভয় দেখান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর আসামিরা তাদের মারধর করে সঙ্গে থাকা ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, স্থানীয় কয়েকজন ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। এ সময় এক পথচারী তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসেন এবং অন্য একজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে আরও লোকজন জড়ো হতে থাকলে অভিযুক্তরা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
