প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরিদের বেতন-ভাতায় ভাগ!


পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত দপ্তরি কাম প্রহরীদের বেতন-ভাতা ও উৎসব ভাতার টাকা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

গত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার উৎসব ভাতা এবং পরবর্তী সময়ে বেতন দেওয়ার সময় প্রত্যেক কর্মচারীর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৮ জন দপ্তরি কাম প্রহরী কর্মরত রয়েছেন। গত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার উৎসব ভাতা পাননি এসব কর্মচারী। পরবর্তীতে জোড়ালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নানা ধরনের নাটকীয়তার পর তাদের ভাতা দেয়া হয়। তবে এ ক্ষেত্রে প্রত্যেক কর্মচারীর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে উৎকোচ নেওয়া হয়। 

অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে হিন্দু ধর্মাবলম্বী দপ্তরি কাম প্রহরীদের ক্ষেত্রে। তাদের কাছ থেকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরো এক মাসের বেতনই কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৬৮ জন কর্মচারীর কাছ থেকে একইভাবে অর্থ নেওয়া হয়ে থাকলে মোট টাকার পরিমাণও দাঁড়ায় কয়েক লাখ টাকা। 

ভুক্তভোগী কর্মচারীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাকরি হারানো কিংবা কর্মক্ষেত্রে নানা ধরনের হয়রানির আশঙ্কায় তারা প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে কথা বলতে চান না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মচারী বেতন-ভাতা থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তারা বলেন, ‘আমরা চাকরি করি, তাই অনেক কিছু চাইলেও বলতে পারি না। উৎসব ভাতার সময়ও টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে বেতন দেওয়ার সময়ও টাকা কেটে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেকেই অসন্তুষ্ট, কিন্তু চাকরির কারণে মুখ খুলতে ভয় পাই।’

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই অনিয়ম যোগসাজশ রয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় দপ্তরি কাম প্রহরী কল্যাণ সমিতির নেতাদেরও। সংগঠনের নেতাদের মাধ্যমেই এই টাকা নেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয় দপ্তরী কাম প্রহরী কল্যাণ সমিতির পঞ্চগড় সদর উপজেলা সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘উৎসব ভাতা দেওয়ার সময় আমি অসুস্থতার কারণে উপস্থিত ছিলাম না। যা করেছে আমাদের জেলার সাধারণ সম্পাদক আসাদ বলতে পারবে।’

তবে সংগঠনটির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদ অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।

একইভাবে অভিযোগ অস্বীকার করেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমিনুল ইসলামও। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোন লেনদেন হয়নি। এগুলো অপপ্রচার।’





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *