ফুলবাড়ী দিবসের ২০ বছর পূর্তিতে ঢাবিতে তথ্যচিত্র প্রদর্শনী
ঐতিহাসিক ফুলবাড়ী দিবসের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আন্দোলন গড়ে তোলো, মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিসহ সব নতজানু চুক্তি বাতিল করো’-স্লোগানে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে জায়েদ আজিজ পরিচালিত ‘ফুলবাড়ীর ৭ দিন’ তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর পর বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়া বলেন, ফুলবাড়ীর রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের দুই দশক পরও দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংকট থেকে বের হতে পারেনি। মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট ও ঘনঘন লোডশেডিংয়ে এ খাত গভীর সংকটে পড়েছে।
তিনি বলেন, এই সংকটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে জাতীয় সম্পদ ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত দেশি-বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আবারও ফুলবাড়ী থেকে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের কথা বলায় তারা ক্ষুব্ধ হয়েছেন।
অর্ক বড়ুয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলা খাতকে বেসরকারিকরণ করা হলে দেশের মানুষের ভোগান্তির আর কোনো শেষ থাকবে না। তাই জ্বালানি খাতকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রেখে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘দেশের শাসকগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক দলগুলোর নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এবং মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দলগুলোর রহস্যজনক নীরবতা জনগণের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’
অনুষ্ঠান থেকে বক্তারা কোনো অবস্থাতেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বেসরকারিকরণ না করার দাবি জানান। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব গোপন ও একপেশে চুক্তি বাতিল এবং জাতীয় বাজেটে পুনর্ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি খাতে বরাদ্দ বহুগুণ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। বিনা সুদে সোলার কেনার জন্য ঋণ দেওয়ারও দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ওপর জনগণের পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় শাসকশ্রেণি ও তাদের বিদেশি সহযোগীদের কথিত লুটপাট ও সার্বভৌমত্ববিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
আরটি/এমএএইচ/
