যে কারণে নেপালে ঘটলো ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা
নেপালে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার কারণ সামনে আসতে শুরু করেছে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তুষারধসের কারণেই বুধবার নেপালের ভোতে কোশি নদীতে হড়পা বান নেমেছিল। তুষারধসের জেরে পাথর ও বরফের স্তূপে অবরুদ্ধ হয়েছিল নদীর গতিপথ। জমে যাওয়া জলের চাপে হঠাৎই সেই ‘অবরোধ’ ভেঙে যায়। ফলে সৃষ্টি হয় হড়পা বান। খবর এনডিটিভি অনলাইন।
বুধবার বন্যার পরে প্লানেট ল্যাব স্যাটেলাইট ছবিটি প্রকাশ করেছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাতে ইঙ্গিত মিলেছে, একটি তুষারধস লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছিল।
নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, রাসুয়াগড়ি সীমান্ত ক্রসিং থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নেপাল-চীন সীমান্তের হিমবাহ অঞ্চলের কাছে বরফ ও পাথরের একটি খণ্ড ভেঙে পড়েছে। সেই তুষারধসটি হয় কোনো হিমবাহ হ্রদে পড়েছে অথবা নদীর গতিপথ রুদ্ধ করেছে। এর ফলে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস, যা হিমবাহের বরফ গলিত পানি এবং ধ্বংসাবশেষ বহন করে এনেছে—এই ‘হিমবাহ-সমেত বন্যা’—লেহন্দে খোলা নদী দিয়ে ভোতে কোশি নদীতে আছড়ে পড়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খনাল জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিট নাগাদ একটি ভূমিকম্প হয়। এর পর একটি তুষারধস ঘটে।
কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানের অধ্যাপক রিজন ভক্ত কায়স্থের মতে, লেহন্দে নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে জমা পানি পাথর ফাটিয়ে ভোতে কোশিতে পড়ে বিপর্যয় ঘটিয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বন্যায় অন্তত ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপাল পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অন্তত ২৯১ বিদেশিসহ অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটকের কোনো খোঁজ মিলছে না। তাদের মধ্যে ১৪১ জন ভারতীয় (৩৭ অনাবাসীসহ)। তাদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে।
