ফেনীতে বিএনপির দু’পক্ষে সংঘর্ষ
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির দুইপক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দাগনভূঞা আতাতুর্ক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন ও বহিষ্কৃত জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি কাজী জামশেদুর রহমান ফটিকের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। আকবর হোসেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ভাই।
বুধবার বিকেলে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আতাতুর্ক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিকসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে আকবর হোসেন নেতাকর্মীদের নিয়ে বের হলে ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে অবস্থান নেওয়া ফটিকের অনুসারীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ পরস্পরকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।
পুলিশের পাশাপাশি বিএনপির কয়েকজন নেতা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় ফটিক ও তার ভাই পলাশকে নিজেদের কর্মীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলার সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন করা হয়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি শেষে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা ফটিক হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আকবর হোসেনের দাবি, হামলায় তিনি ও তার স্ত্রী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহিনা আকবর, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব তৌহিদুল আলম মানিক, রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন ভূঞা হুদন, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব ইকবাল হোসেন সুজন, দাগনভূঞা প্রবাসী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক ডালিম চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা বেগমের স্বামী সাইফুল ইসলাম দুলাল, যুবদল নেতা বাদশা ও মামুনসহ অন্তত ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বাকি বিল্লাহ ও সুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে কাজী জামশেদুর রহমান ফটিক বলেন, তিনি মৎস্যজীবী দলের একটি কর্মসূচিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রাস্তার এক পাশে তাদের এবং বিপরীত পাশে অপর পক্ষের কর্মসূচি ছিল। তাদের কর্মসূচি থেকে উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়ার একপর্যায়ে দুইপক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
ফটিক বলেন, পরে নেতাকর্মীদের ওপর আঘাত করা হলে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। তার দাবি, তাদের পক্ষের রাব্বি, নাইমুর রহমান, রিয়াদ, হুমায়ুন আহমেদ ও রায়হানসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সুজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী আবদুল্লাহ আল মামুন, ফখরুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন টিপু ও এম রহমান সোহেল আহত হয়েছেন।
দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সানজিদা মাহবুব বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে সাতজন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। পরে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ‘‘অনুষ্ঠানস্থলে থাকা অবস্থায় হট্টগোলের শব্দ শুনেছি। পরে বের হয়ে সড়কে কিছু ইটপাটকেল ছাড়া আর কিছু দেখিনি। পুলিশ আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’’ বিষয়টি দলের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতাদের অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম নোমান বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে আগে থেকে দুইপক্ষের উপস্থিতি ছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দুইপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে আকবর হোসেন ও কাজী জামশেদুর রহমান ফটিকের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত বছরের ২২ ডিসেম্বর উপজেলা ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর থেকে এ বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নেয়। কমিটি বাতিলের দাবিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। এ নিয়ে গত বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর ও নভেম্বরেও দুইপক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়েছে।
