বছরে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ‘টার্নওভার’কর দিতে হবে না
কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা পেশা থেকে বার্ষিক ২ কোটি টাকা পর্যন্ত আয়ের (টার্নওভার) ওপর কর দিতে হবে না। চলতি অর্থবছরের বাজেটে এক্ষেত্রে ১ শতাংশ হারে কর বসিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর; সেখান থেকে সরে এসে সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কর আদায়ের এ সংস্থাটি।
এর আগে টার্নওভার কর ছিল দশমিক ৬০ শতাংশ।
টার্নওভার কর বোঝায়, কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি বা পেশা থেকে যে বিক্রির মাধ্যমে বা সেবার মাধ্যমে আয় হবে তাতে লাভ বা লোকসান যাই-ই হোক, এরজন্য একটা নির্দিষ্ট হারে কর দিতে হয়।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তার লোকসান দেখিয়ে কোম্পানি কর না দেওয়ার প্রবণতা রোধ করতে এ আইন করেছিল এনবিআর; তবে এ আইনটিকে ‘কালো আইন’ হিসেবেও দেখা হয়।
কারণ এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান সত্যিকার অর্থেই লোকসান করলেও এধরনের করের মধ্যে পড়ে যায়, যা করের ন্যায্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।
এনবিআরের নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২ কোটি টাকা থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির ওপর টার্নওভার কর হবে দশমিক ৫ শতাংশ। অর্থাৎ ২ কোটি টাকার ওপর যে বাড়তি আয় হবে তার ওপর দশমিক ৫ শতাংশ কর দিতে হবে।
আর ৪ কোটি টাকার বেশি আয় হলে সেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিকে ১ শতাংশ ন্যূনতম কর দিতে হবে আগের মতোই।
এর ফলে মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুফল মিলবে।
এর আগে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির ওপর আরোপিত ১ শতাংশ ন্যূনতম ‘টার্নওভার’ করব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছিল। একই দাবিতে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছিল ঢাকা চেম্বারও।
তবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর প্রথম তিন বছর পর্যন্ত ১ শতাংশের পরিবর্তে দশমিক ২ শতাংশ হারে ‘টার্নওভার’ কর দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ এখনও বহাল থাকছে।
কিছু খাতের ক্ষেত্রে ‘টার্নওভার’ কর আরও বেশি রয়েছে। সেসব এখনও তাই থাকছে।
এরমধ্যে সিগারেট, বিড়ি ও তামাক জাতীয় পণ্য উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের ওপর এই কর ৩ শতাংশ, কার্বোনেটেড বেভারেজ ও মিষ্টি প্রস্তুতকারকদের ওপর আড়াই শতাংশ এবং মোবাইল ফোন অপারেটরদের ক্ষেত্রে দেড় শতাংশ। বাকিদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ করা হয়েছিল বাজেটে, সেখানেই পরিবর্তন আনল সরকার।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম
