বাংলাদেশের বিপক্ষে অ্যাশেজের চেয়েও শক্তিশালী একাদশ খেলাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া


অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট সংস্কৃতিতে কোন রাখ-ঢাক নেই। টেস্টের আগের দিনই তারা জানিয়ে দেয় একাদশ। সেই নিয়ম বজায় রেখেই বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টের একাদশ জানিয়ে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অ্যাশেজের চেয়েও শক্তিশালী একাদশই বেছে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অজিরা তাদের বোলিং ডিপার্টমেন্টের ‘বিগ-ফোর’কে নিয়েই বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামছে। 

মারারা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৬টায় শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। বাংলাদেশকে এক বিন্দুও ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা নেই অজিদের। এক বছরের বেশি সময় পর আবার একসঙ্গে দেখা যাবে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউডকে। সাথে আছেন স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে আছেন নাথান লায়ন। এই চার বোলারের সম্মিলিত টেস্ট উইকেট ১ হাজার ৬০০ ছাড়িয়েছে।

দুই পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বাউ ওয়েবস্টার দুজনকেই একাদশে রেখেছে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে পার্টটাইম স্পিনটা ভালোই করেন ট্রাভিস হেডও।

ডারউইনের স্থানীয় ছেলে জেইক ওয়েদেরল্ডকে রাখা হয়েছে হেডের সঙ্গে ওপেনিংয়ে। নর্দান টেরিটরিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটার ওয়েদেরল্ডের জন্য এই সিরিজটা নিজেকে প্রমাণের বড় সুযোগ। অ্যাশেজে পাঁচ টেস্টে মাত্র একটি ফিফটি করা এই ওপেনার বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো করতে না পারলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন আরও বাড়তে পারে।

তিন নম্বরে মার্নাস লাবুশেনও আছেন একই ধরনের চাপ নিয়ে। সবশেষ সাত ইনিংসে ফিফটি নেই তার, আর টেস্টে সেঞ্চুরির অপেক্ষা চলছে ৪০ ইনিংস ধরে। একসময় ৫০-এর ওপরে থাকা ব্যাটিং গড়ও এখন নেমে এসেছে ৪৪.৭০-এ। বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় রান তাই লাবুশেনের জন্যও জরুরি।

চার নম্বরে যথারীতি স্টিভেন স্মিথ। এরপর পাঁচে ক্যামেরন গ্রিন। গত এক বছরে একাধিক ব্যাটিং পজিশনে খেললেও অস্ট্রেলিয়া এখন তাকে মূলত ব্যাটার হিসেবেই ব্যবহার করছে। তবে শেষ ১০ ইনিংসে ফিফটি না পাওয়ায় গ্রিনের ওপরও আছে পারফর্ম করার চাপ।

ছয় নম্বরে উইকেটকিপার অ্যালেক্স কেয়ারি। সাত নম্বরে বাউ ওয়েবস্টার। আট টেস্টের ক্যারিয়ারে পাঁচ ফিফটি করা ওয়েবস্টার ব্যাট হাতে যেমন কার্যকর, তেমনি বল হাতেও দলের জন্য বাড়তি বিকল্প। গ্রিনের সঙ্গে তাকে খেলিয়ে অস্ট্রেলিয়া একাদশে অলরাউন্ডিং গভীরতাও বাড়িয়েছে।

স্কট বোল্যান্ডকে থাকতে হচ্ছে একাদশের বাইরে, হ্যাজেলউড ও বোল্যান্ডের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হতো অধিনায়কে। সেটিও স্বীকার করেছেন কামিন্স, ‘ওরা দুজনেই বেশ উঁচু মানের, তাই না? আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে লায়োনোকে (লায়ন) দলে চাই, তাই স্কটিকে (বোল্যান্ড) না বলা ছাড়া আর বিশেষ কিছু করার থাকে না। তবে, সামনে অনেক খেলা আছে।’ 

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের ব্যস্ততম মৌসুমেরও শুরু হচ্ছে। আগামী ১১ মাসে ২০টি টেস্ট খেলার কথা অস্ট্রেলিয়ার। আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলে সংখ্যাটা ২১-এ গিয়ে দাঁড়াবে।





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *