বিশ্বাস, সন্দেহ আর প্রতারণার খেলা, ‘দ্য ট্রেইটর্স’ নিয়ে কেন এত বিতর্ক
নারী প্রতিযোগীদের নিয়ে দ্বৈত মানদণ্ড?
আরেকটি বিষয়ও লক্ষ করার মতো। শোতে কোনো নারী প্রতিযোগী যদি দৃঢ়ভাবে নিজের মত প্রকাশ করেন, তর্ক করেন কিংবা কাউকে আক্রমণ করেন, দর্শকের একটি অংশ দ্রুত তাঁর ব্যক্তিত্ব নিয়ে মন্তব্য করতে শুরু করে। শ্বেতা তিওয়ারি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের উদ্দেশে করা কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে—রিয়েলিটি শোতে পুরুষ প্রতিযোগীর ‘আগ্রাসী খেলা’ যদি কৌশল হিসেবে দেখা হয়, তাহলে নারী প্রতিযোগীর একই আচরণ কেন অনেক সময় ব্যক্তিগত চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে?
‘দ্য ট্রেইটর্স’ হয়তো সরাসরি এই প্রশ্নের উত্তর দেয় না। কিন্তু অনুষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া সেই সামাজিক বাস্তবতাকে সামনে এনে দেয়।
দর্শকও যেন খেলোয়াড়
‘দ্য ট্রেইটর্স’-এর সবচেয়ে বড় সাফল্য এখানেই। দর্শক শুধু দর্শক হয়ে থাকেন না।তাঁরাও অনুমান করেন—কে ট্রেইটর? কোনো প্রতিযোগী চোখের দিকে না তাকিয়ে কথা বললেন—সন্দেহ। কেউ বেশি আত্মবিশ্বাসী—সন্দেহ। কেউ হঠাৎ চুপ হয়ে গেলেন—সন্দেহ। আবার কেউ খুব ভালোভাবে কাউকে রক্ষা করলেন—সেটিও সন্দেহের কারণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন হাজার হাজার মানুষ নিজেদের তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করেন, তখন অনুষ্ঠানটির আয়ু একটি পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে শেষ হয় না।
‘দ্য ট্রেইটর্স ২’ আসলে কী দেখাচ্ছে?
এটি শুধু কে কত টাকা জিতবে, সেই গল্প নয়। বরং মানুষের বিশ্বাস করার প্রবণতা, সন্দেহ, অহং, বন্ধুত্ব, আত্মরক্ষা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার গল্পও।
মুনাওয়ারের দ্রুত বিদায় দেখিয়েছে—অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বিপজ্জনক। পারুলের ঘটনা দেখিয়েছে—অসাধারণ অন্তর্দৃষ্টিও সন্দেহ তৈরি করতে পারে। মল্লিকা-শালিনী বিতর্ক দেখিয়েছে—খেলার বাইরের একটি মন্তব্যও মুহূর্তে বড় সংঘাতে পরিণত হতে পারে।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—এই সব বিতর্কের অনেকটাই এখনো দর্শকের চোখে ‘অভিযোগ’ ও ‘ব্যাখ্যা’র পর্যায়ে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রায়কে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নেওয়ার আগে পর্দায় কী ঘটেছে, প্রতিযোগীরা কী বলেছেন এবং নির্মাতারা কীভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করছেন—সবকিছু দেখা জরুরি।
‘দ্য ট্রেইটর্স ২’-এর আসল মজাটাও এখানেই। এখানে কেউ পুরোপুরি নির্দোষ নয়, আবার কাউকে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে দোষীও বলা যায় না। যে মানুষটি আজ আপনার সবচেয়ে কাছের মিত্র, কাল তিনিই হয়তো আপনাকে খেলা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এই খেলায় তাই সবচেয়ে দামি জিনিস টাকা নয়—বিশ্বাস। আর সেই বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে, ‘দ্য ট্রেইটর্স’-এর ভাষায়, তখন শুরু হয় আসল খেলা।
হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে
