ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গানবাজনার অনুষ্ঠানে হামলা কি বৈধ
সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক—দুই পরিসরের ঘটনাগুলো থেকে পরিলক্ষিত হচ্ছে যে জনপরিসর ক্রমেই সংকুচিত করার চেষ্টা শুরু হয়েছে। সেই সংকোচন প্রক্রিয়াতে রাষ্ট্রের যে সম্মতি রয়েছে, তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও শহীদ মিনারের সমাবেশে পুলিশের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট। উল্লেখ্য, অভ্যুত্থানের পর যত মাজার–দরবারে হামলা হয়েছিল, তার অধিকাংশই হামলার পর আর খোলেনি। (সূত্র: আজকের পত্রিকা, ১৮ এপ্রিল ২০২৬)
এর আরেক অর্থ হচ্ছে, সমাজে নাগরিক বিভিন্ন পরিসরের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরিসর কেবল সংকুচিত হচ্ছে।
জনপরিসর কেবল ভৌগোলিক কোনো জায়গা (যেমন শহীদ মিনার বা মাঠ) নয়; এটি নাগরিক অধিকার, সাংস্কৃতিক চর্চা ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের মুক্ত স্থান। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক রূপান্তরের অপরিহার্য শর্ত হচ্ছে, এ ধরনের পরিসরের বিচিত্রতা ও ব্যাপকতা বৃদ্ধি। আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার পেছনে এ ধরনের পরিসরের সংকোচন এবং পরিসরে সবার অংশগ্রহণকে সীমিত করে তোলার প্রক্রিয়া ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল।
এই পরিসর এক ও সমরূপী হতে হবে, এমন নয়। বরং সমাজের বিভিন্ন ধরনের মতাদর্শ, বাদ–প্রতিবাদ সব থাকবে সেখানে। যাঁরা সিনেমা, গান আয়োজন করতে চান, তাঁরা যেমন করতে পারবেন; তেমনি যাঁরা গান-সিনেমা পছন্দ করেন না, তাঁরাও এর বিরুদ্ধে ওয়াজ-মাহফিল আয়োজন করতে পারবেন। তাঁরাও তাঁদের অপছন্দের কথা জানাবেন। এই সহাবস্থান নিশ্চিত করার দায়িত্ব হচ্ছে রাষ্ট্রের।
