ব্রেট লি’র প্রশ্ন, সূর্যবংশীর বয়স কী সত্যিই ১৫?


বয়স মাত্র ১৫। এই বয়সেই যেভাবে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন ভারতীয় কিশোর ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী, তা রীতিমতো বিস্ময় সৃষ্টি করে। সর্বশেষ আইপিএলে ৭২টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। হয়েছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তাতে তার বয়স নিয়ে একটা সংশয় তৈরি হয় বৈকি।

শুধু ভারতেই নয়, সূর্যবংশীর বয়স নিয়ে ভারতের বাইরেও সন্দেহ-সংশয়ের সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি পেসার ব্রেট লি। তিনি স্বীকার করে নেন, ভারতের বাইরেও সূর্যবংশীর বয়স নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। বলা হয়, তার বয়স কী সত্যি ১৫?

তবে বয়স যাই হোক, সূর্যবংশীর ব্যাটিং প্রতিভা নিয়ে কোনো সংশয় নেই ব্রেট লি’র মনে। বরং তিনি সূর্যবংশীর বয়স নিয়ে ওঠা আলোচনাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতেও রাজি নন। তার মতে, বৈভবের বয়স ১৫, ১৬, ১৭ কিংবা ১৮- যাই হোক না কেন, আসল বিষয় হলো তার ক্রিকেটীয় সামর্থ্য। এত অল্প বয়সে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে নিজের প্রতিভার যে ছাপ তিনি রেখেছেন, সেটিই হওয়া উচিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

‘বিয়ার বাইসেপস’ পডকাস্টে বৈভবকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে লি বলেন, ভারতের বাইরে এখনও অনেকেই তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ‘ভারতের বাইরে, বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় সবাই একটা প্রশ্ন করে- সে কি সত্যিই ১৫? ‘সে কি ১৫?’- এটাই সম্ভবত এখন বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। কিন্তু আমার কাছে সে কত বছরের, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।’

অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি পেসারের ভাষায়, বৈভব সত্যিই ১৫ বছর বয়সী হলে সেটি দুর্দান্ত; আর বয়স যদি ১৭ বা ১৮-ও হয়, তাতেও তার ক্রিকেটীয় প্রতিভা কোনোভাবেই ছোট হয়ে যায় না।

‘সে যদি ১৫ বছরের হয়, অসাধারণ। কিন্তু সে ১৭ বা ১৮ হলেও তাতে কী আসে যায়? ছেলেটা ক্রিকেট খেলতে পারে। ভারতের জন্য সে দারুণ এক আবিষ্কার। সামনে সে আরও বড় ও ভালো কিছু অর্জন করবে।’

বৈভবের উত্থানের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হলো আইপিএল। এত অল্প বয়সে বিশ্বের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, সেটিই মুগ্ধ করেছে ব্রেট লিকে।

বিশেষ করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে তার ৯৭ রানের ইনিংসটি আলাদা করে উল্লেখ করেছেন সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার। ওই ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের গতির বিপক্ষেও বৈভবকে দারুণ স্বচ্ছন্দ দেখায়।

লি বলেন, বৈভব যেভাবে দ্রুতগতির বল সামলেছেন, সেটিই তার প্রতিভার সবচেয়ে বড় প্রমাণ, ‘সে এত অল্প সময়ের মধ্যেই আইপিএলে আলোড়ন তৈরি করেছে। হায়দরাবাদের বিপক্ষে তার ৯৭ রানের ইনিংসটি দেখুন। সে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের বিপক্ষে খেলেছে। তারা প্রচণ্ড গতিতে বল করছিল, আর সে নাকের সামনে দিয়ে আসা বলও হুক করে সীমানাছাড়া করেছে।’

শুধু পাওয়ার হিটিং নয়, বৈভবের শট নির্বাচনের পরিণতিও লির নজর কেড়েছে। তার মতে, তরুণ এই ব্যাটার শুধু শক্তির ওপর নির্ভর করে খেলেন না; বরং প্রচলিত ক্রিকেটীয় শটও বেশ ভালোভাবে খেলতে পারেন। ‘সে সঠিক ক্রিকেটীয় শট খেলছে। কোথা থেকে যেন এমন শক্তি বের করে আনছে, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য,’- বলেন লি।

বৈভবের প্রতিভা নিয়ে ব্রেট লির কোনো সংশয় নেই। বরং তার মতে, ভবিষ্যতে এই তরুণের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যাটিং বা ফর্ম নয়, বরং মানসিক চাপ সামলানো।

কারণ মাত্র কিশোর বয়সেই বৈভবকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিপুল প্রত্যাশা। আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে সফল হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই তার ওপর মানুষের প্রত্যাশা আরও বাড়বে। লির পরামর্শ, সেই চাপ থেকে বৈভবকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে।

‘তার ফর্ম বা ব্যাটিং নিয়ে সমস্যা হবে না। তার জন্য সবচেয়ে বড় বিষয় হবে তার মন। তাকে এখনও শিশু থাকতে হবে। তার ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়,’ বলেন লি।

অর্থাৎ বৈভবকে শুধু একজন ক্রিকেটার হিসেবে নয়, ১৫ বছর বয়সী একজন কিশোর হিসেবেও দেখতে চান তিনি। লির মতে, প্রতিভার বিকাশের পাশাপাশি স্বাভাবিক শৈশব ধরে রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ।

বৈভবকে বল করতে হলে কী করতেন লি?

বৈভবের ব্যাটিংয়ের অন্যতম আকর্ষণ তার পুল ও হুক শট। শর্ট বলকে ভয় না পেয়ে বরং সেটিকে আক্রমণ করার প্রবণতা রয়েছে তার। এমন একজন ব্যাটারকে নিজের সময়ে বল করতে হলে কী কৌশল নিতেন- সেটিও জানিয়েছেন ব্রেট লি।

সাবেক এই গতি তারকার উত্তর, বৈভবের মতো ভালো হুক বা পুল খেলতে পারা ব্যাটারের সঙ্গে লড়াই করতে তিনি বরং উপভোগই করতেন। ‘কেউ যদি বল ভালোভাবে হুক বা পুল করতে পারে, সেটা আমি পছন্দ করতাম। কারণ তখন বিষয়টি একটা প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়।’

এরপর নিজের কৌশল ব্যাখ্যা করে লি বলেন, প্রতিপক্ষ ব্যাটারের ভিডিও ও দুর্বলতা বিশ্লেষণ করেই পরিকল্পনা সাজাতেন। বৈভবের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হতো না। ‘আমি অবশ্যই আগে বোর্ডরুমে যেতাম, ওপরের দিকে উঠে তার ব্যাটিং দেখতাম। এরপর তার হেলমেটের ব্যাজ বরাবর একটি বল করতাম এবং দেখতাম সে কী করে।’

তবে সেই বল ছক্কা হয়ে গেলেও থামতেন না লি। ‘হয়তো সে আমাকে ছক্কা মেরে দিত। কিন্তু তাতে আমি নিরুৎসাহিত হতাম না। আমি তাকে আবারও একই ধরনের বল করতাম।’

বৈভব সূর্যবংশীকে নিয়ে বয়সের বিতর্ক থাকলেও ব্রেট লির বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট- এই তরুণের প্রতিভা নিয়ে তার মনে কোনো সংশয় নেই। বরং অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই গতি তারকা মনে করেন, সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারলে বৈভব ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন।

আইপিএলের মতো কঠিন মঞ্চে অল্প বয়সেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া বৈভব এখন তাই শুধু ভারতের ভবিষ্যৎ তারকা নন, বিশ্ব ক্রিকেটেরও অন্যতম আলোচিত তরুণ প্রতিভা। তবে ব্রেট লির বার্তাটাই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- বয়সের সংখ্যা নিয়ে নয়, ব্যাট হাতে বৈভব কী করতে পারেন, সেটিই হওয়া উচিত আলোচনার বিষয়।

আইএইচএস/



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *