ভূমি অফিসে হয়রানি-দুর্নীতি হলে কঠোর ব্যবস্থা: ডিসি ফরিদা


ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে কোনো নাগরিককে হয়রানি, ঘুষ কিংবা দালালের খপ্পরে পড়তে হবে না—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।

একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমিসেবা দেওয়ার পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।

সভায় ফরিদা খানম বলেন, ভূমি অফিসে একজন নাগরিক কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুগ্রহ নিতে আসেন না; তিনি রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য সেবা নিতে আসেন। তাই নাগরিককে যথাযথ সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বের পাশাপাশি নৈতিক কর্তব্যও।

ভূমিসেবায় গাফিলতি, অনিয়ম কিংবা নাগরিক হয়রানি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক কর্মকর্তাদের অফিসে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত থেকে দ্রুত সেবা কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেন। নামজারি, খতিয়ান, মিউটেশনসহ ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে ফরিদা খানম বলেন, ঘুষ নেওয়া, নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়, ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইল আটকে রাখা কিংবা অকারণে কোনো নাগরিককে ঘোরানো যাবে না।

দালালের মাধ্যমে ভূমিসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভূমি অফিসগুলোকে দালালমুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, নাগরিকদের সরাসরি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সেবা দিতে হবে। কোন সেবার জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন, সরকারি ফি কত এবং সেবা পেতে কত সময় লাগবে—এসব তথ্য নাগরিকদের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।

ভূমি কর্মকর্তাদের নাগরিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করারও নির্দেশ দেন তিনি। ফরিদা খানম বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে জমি অনেক সময় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ফলে ভূমি অফিসে এসে কেউ যেন অপমানিত বা হয়রানির শিকার হয়ে ফিরে না যান, সেটি কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে।

দাবির চেয়ে বেশি ভূমি উন্নয়ন কর আদায়

মতবিনিময় সভায় ঢাকা জেলার ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের চিত্রও তুলে ধরা হয়।

সভায় জানানো হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঢাকা জেলায় সাধারণ খাতে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮০ টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বা দাবি ছিল। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৩ কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৬ টাকা। অর্থাৎ দাবির তুলনায় আদায়ের হার ১১০ দশমিক ৬ শতাংশ।

এ ছাড়া সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর থেকে ২৬ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১৬০ টাকা এবং অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি হিসেবে ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৮৬ হাজার ১২৫ টাকা আদায় হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে এ সাফল্যের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), তহসিলদারসহ সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান জেলা প্রশাসক। তাদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার কারণেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘লক্ষ্য শুধু ফাইল নিষ্পত্তি নয়’

সভায় জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ভূমি প্রশাসনের কাজ শুধু ফাইল নিষ্পত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সমস্যার সমাধান করাই মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, নাগরিকরা যেন কোনো দালালের সহায়তা ছাড়াই সহজ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভূমিসেবা নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে। সেবা নিতে এসে কোনো মানুষকে যেন দিনের পর দিন ঘুরতে না হয় এবং কাজ শেষে সন্তুষ্ট হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন কর্মকর্তাদের সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায়, ভূমিসেবা আরও সহজ করা এবং নাগরিকদের ভোগান্তি কমানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
 
এমডিএএ/এমএমকে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *