মুদি পণ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে সরবরাহেও টান
গেল সপ্তাহে বেড়েছিল আটা-ময়দার দাম। এই সপ্তাহে দাম বাড়ার তালিকায় যোগ হয়েছে তেল ও চিনি। একইসঙ্গে কয়েক সপ্তাহ আগের চড়া দামেই এখনো কিনতে হচ্ছে ডিম। আটা-ময়দা, তেল চিনির মত মুদি পণ্যের দামের সঙ্গে টান পড়েছে সরবরাহেও। কয়েক দোকান ঘুরে এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে নিত্য প্রয়োজনীয় এসব মুদি পণ্যের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।
ভোক্তারা বলছেন, গত এক মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে ময়দার দাম বাড়ছিল। সর্বশেষ এক মাস আগে ময়দার কেজি ছিল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। গত শনিবার বিক্রি হয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। শুক্রবার ময়দার কেজি বেড়ে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারে ডেইলি নিডসের দোকানে দুই কেজির প্যাকেটজাত ময়দা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা করে। আগে একই পরিমাণ ময়দার প্যাকেটের দাম ছিল ১৪০ টাকা। আর প্রতি কেজি প্যাকেটজাত আটার দাম বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। বর্তমানে প্রতি কেজি আটার প্যাকেটের দাম ৭০ টাকা। মাসখানেক আগে দাম ছিল ৬০ টাকা।
বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায়। খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা।
খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও এখনো বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি। গত একমাসে বোতলের সয়াবিন তেলের দাম স্থির থাকলেও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ফের বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। তাই দোকানে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদপুর টাউন হলের মুদি দোকানে আধ লিটার ও এক লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল খুঁজতে কয়েকটি দোকান ঘুরতে হচ্ছে। এ বাজারের ডেইলি নিডসে খুঁজে এক লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল পাওয়া যায়নি। খুচরা দোকানেও মিলছিল না। পরে বড় একটি দোকান থেকে কেনার কথা বলেন ক্রেতা ফাহিম আহমেদ।
তিনি বলেন, আধা লিটার বা এক লিটার সয়াবিন তেলের বোতল খুঁজছিলাম। কয়েকটি দোকানে খুঁজলাম। পরে মার্কেটের ভিতরে বড় দোকানে পাওয়া গেছে।
এদিকে চিনির বাজারও চড়তে শুরু করছে। খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি চিনির দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনিরও গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।
কারওয়ান বাজারের মুদি দোকান জনতা স্টোরের হিসাবের টেবিলে বসা কর্মচারী জুয়েল আহমেদ বলেন, পাইকারীতে চিনির মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা পর্যায়েও দাম বেড়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৯০০ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ডিলাররা। প্যাকেটজাত চিনির দামও কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। তারপরও চিনির সরবরাহ কম।
এদিকে গত মাসে ডিমের ডজন ১২৫ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে ছিল। বর্তমানে তা কিনতে ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা।
গত মাসে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। গত সপ্তাহের মতই প্রতি কেজি মুরগির (ব্রয়লার) দাম ১৯০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহ থেকে শুধু সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে ক্রেতারা। বাজারে এখন ঢেঁড়শ, পটল, কাকরোল, ঝিঙে ও জালি কুমড়ার কেজি ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, লাউ ও ধুন্দল ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেগুন ও টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা করে।
কারওয়ান বাজারে পাইকারী প্রতিটি সবজির দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে পাওযা যাচ্ছে। এ বাজারে পটল, কাকরোল, লাউ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
গত মাসে প্রতি কেজি ৪০০ কাছাকাছি চলে যাওয়া কাঁচামরিচ আমদানির কারণে দাম নিচের দিকে রয়েছে। শুক্রবার প্রতিকেজি কাঁচামরিচ খুচরায় ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। নদ্দার মোড়ল বাজারে সাপ্তাহিক বাজার করতে আসা গৃহিণী দীপিকা রানী বলেন, সবজিতে দিয়েই চলতেছি। দুইটা পেঁপে কিনলাম ৪০ টাকায়। পটল আধা কেজি ৩০ টাকায় কিনলাম। সূত্র: বিডি নিউজ
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম
