রাশিয়ার নির্বাচনে নিষিদ্ধই থাকছে বিরোধী দল, উপপ্রধানের কারাদণ্ড


রাশিয়ার শীর্ষ আদালত যুদ্ধবিরোধী বিরোধী দল ইয়াবলোকোর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। একই দিনে দলটির উপপ্রধান লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আরেকটি আদালত।

ইয়াবলোকো সোমবার (১৭ আগস্ট) জানিয়েছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল চেয়ে করা তাদের আপিল ব্যর্থ হয়েছে। দলটির নেতারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত রাশিয়ায় গণতন্ত্রের ক্রমবর্ধমান সংকট এবং ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধী মত দমনের প্রমাণ।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট ইয়াবলোকোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন। এর ফলে আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য পার্লামেন্ট নির্বাচনে দলটির অংশ নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়।

ইয়াবলোকো জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল চেম্বার স্টেট ডুমা নির্বাচনে দলটির প্রার্থীদের ফেডারেল তালিকার নিবন্ধন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। তবে দলটি জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তদারকি পর্যালোচনার আবেদন করবে।

নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞার কারণ কী

ইয়াবলোকোর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল রডিনা নামের একটি ছোট রুশপন্থি জাতীয়তাবাদী দল। তাদের অভিযোগ, ইয়াবলোকো পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থনপুষ্ট এবং তারা রাশিয়ার নির্বাচনব্যবস্থা ও দেশটির স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে চায়।

ইয়াবলোকো এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির ভাষ্য, তারা রাশিয়ার লাখ লাখ মানুষের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে।

দলটি আরও বলেছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ কেড়ে নেওয়ার অর্থ হলো ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধী রুশ ভোটারদের সামনে থাকা একমাত্র রাজনৈতিক বিকল্পটিও সরিয়ে দেওয়া।

উপপ্রধানের ১১ বছরের কারাদণ্ড

নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞার আপিল খারিজ হওয়ার দিনই ইয়াবলোকোর উপপ্রধান লেভ শ্লোসবার্গকে ১১ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ইউক্রেন যুদ্ধের বিরোধিতার কারণে তার বিরুদ্ধে রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন করা এবং বাহিনী সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এসব অভিযোগে কঠোর আইন করা হয়। ওই আইনের আওতায় সামরিক বাহিনীকে ‘অসম্মান’ করা বা যুদ্ধ নিয়ে ইচ্ছা করে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এর ফলে রাশিয়ায় খুব কম রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনই প্রকাশ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচনা করতে পারছে।

মানবাধিকারকর্মী ওলেগ অরলভ এবং প্রয়াত রুশ বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির মতো ব্যক্তিরাও আদালতে দাঁড়িয়ে রাশিয়ার ‘স্বৈরতন্ত্র ও দমন-পীড়নের’ বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তবে তাদের খালাস পাওয়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা ছিল না।

‘যুদ্ধ রাশিয়ার জন্য বিপর্যয়’

নিজের মামলার শেষ বক্তব্যে শ্লোসবার্গ ইউক্রেন যুদ্ধকে রাশিয়ার জন্য একটি বিপর্যয় বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এই সময়ে অসংখ্য মানুষের জীবন শেষ হয়ে গেছে। একসময় নিহতদের নামসহ পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশিত হবে এবং পুরো জাতি সেই তালিকা দেখে শিউরে উঠবে।

শ্লোসবার্গের এই বক্তব্যের পর আদালত তাকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেন।

আদালতের বাইরে আটক বহু সমর্থক

শ্লোসবার্গের মামলার রায় শুনতে আদালতে এসেছিলেন ইয়াবলোকোর সমর্থক ও সাংবাদিকেরা। রায়ের দিন তাদের কয়েক ডজনকে পুলিশ আটক করে।

ইয়াবলোকোর মস্কো শাখার প্রধান কিরিল গনচারভ স্বাধীন সংবাদমাধ্যম নোভায়া গেজেটাকে বলেন, সেদিন অনেক মানুষকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যেও অস্বাভাবিক উদ্বেগ দেখা গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আদালতকক্ষে ইয়াবলোকোর নেতা নিকোলাই রিবাকভ এসব আটকের ঘটনাকে ‘ভয় দেখানোর চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেন।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *