রাশিয়া-উত্তর কোরিয়ার প্রথম সড়ক সেতু, ঘনিষ্ঠ হলো দুই দেশ


উত্তর কোরিয়া এবং রাশিয়া তাদের প্রথম সড়ক সেতু উদ্বোধন করেছে। তুমান নদীর ওপর নির্মিত এই সেতু দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের আরও প্রসার ঘটারই প্রতীক।

এক কিলোমিটার দীর্ঘ দুই লেনের এই সেতু সোমবার প্রথম পার হয়েছে পতাকাশোভিত কয়েকটি ট্রাক।

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন এবং উত্তর কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী পাক থায়ে-সং ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে উভয় দেশের কর্মী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

প্রতিদিন ৩০০টি পর্যন্ত যানবাহন এই সেতুতে চলাচল করতে পারবে এবং সেতুটি রাশিয়ার ফেডারেল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে জানান মিশুস্তিন।

রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এর আগে আকাশপথে ও রেলপথে সংযোগ থাকলেও সড়কপথে যথাযথ কোনো সংযোগ ছিল না। বছরের পর বছর আলোচনার পর নতুন সড়ক সেতুটির নির্মাণকাজ গত বছর এপ্রিলে শুরু হয়।

২০২৪ সালে উত্তর কোরিয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সফরের সময় এই প্রকল্প নিয়ে ঐকমত্য হওয়ার পরই এই কাজ শুরু হয়।

সেতুটি উদ্বোধন করে রুশ প্রধানমন্ত্রী মিশুস্তিন বলেন, “আমি নিশ্চিত যে, আন্তঃসীমান্ত পরিবহন অবকাঠামোর সম্প্রসারণ বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক, প্রযুক্তিগত এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।”

তিনি বলেন, “মস্কো এবং পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এক নজিরবিহীন উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং দুই দেশের মধ্যে সড়ক সেতুর উদ্বোধন সত্যিই এক ঐতিহাসিক ঘটনা। এই সেতু নির্মাণ কেবল একটি প্রকৌশল প্রকল্পই নয়, বরং বন্ধুত্বের এক নতুন প্রতীক।”

২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। ২০২৪ সালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের সেনাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উত্তর কোরিয়া হাজার হাজার সেনাও পাঠায়।

মিশুস্তিন সোমবার তার ভাষণে বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি সেই কোরীয় বীরদের কথা উল্লেখ করে বলেন, “তারা মাত্র কিছুদিন আগেই আমাদের সেনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে এবং রাশিয়ার মাটি রক্ষা করেছে।”

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *