সংসদে যৌক্তিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই: আতিক মুজাহিদ
সংসদে যৌক্তিক ও পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ।
তিনি বলেন, পার্লামেন্টে যৌক্তিক প্রশ্ন করে, যৌক্তিক স্ট্যাটিস্টিক প্রশ্ন করলে উত্তর যায় না? পল্টন! আমার প্রশ্ন হলো, পল্টনটা কি নয়া পল্টন, না পুরানা পল্টন? ১৭ বছর তোমাদের সঙ্গে আমরা আন্দোলন করেছি। বক্তব্যটা আমরা কোথায় দিয়েছিলাম— নয়া পল্টনে দিয়েছিলাম।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শিক্ষা খাতে সুশাসন: নিয়োগ, বরাদ্দ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি’ শীর্ষক আলোচনা সভা আয়োজন করে বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্স।
ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, শিক্ষা খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে ভালো ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। শিক্ষক নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক সুপারিশের ভিত্তিতে অযোগ্য বা বিতর্কিত ব্যক্তিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
শিক্ষকদের নানান কাজে ব্যস্ত রাখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষকদের মূল দায়িত্ব শিক্ষাদান। অথচ একজন প্রাথমিক শিক্ষককে প্রায় ৪২ ধরনের কাজে ব্যস্ত রাখা হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবার প্রধান শিক্ষকও নেই। এভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বেসরকারি শিক্ষকদের আর্থিক দুরবস্থার কথা তুলে ধরে এনসিপির এ সংসদ সদস্য বলেন, বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। তিন কোটি টাকা দিয়ে মসজিদ বানানো হচ্ছে, অথচ শিক্ষকের বেতন নেই— এটা কেমন শিক্ষাব্যবস্থা?
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিতে পারে, অথচ অবসর নেওয়া শিক্ষকরা ভাতার জন্য অপেক্ষা করছেন। শিক্ষকদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
শিক্ষানীতি নিয়ে আতিক মুজাহিদ বলেন, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যবই, কারিকুলাম ও শিক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তন করা উচিত নয়। দেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ বিবেচনায় নিয়ে সবার মতামতের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি ও গ্রহণযোগ্য একটি শিক্ষা কারিকুলাম তৈরি করতে হবে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি শিক্ষক অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আব্দুর রহমান রিজভী। সভায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ মাহাদী, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মাইনুদ্দিনসহ শিক্ষক নেতারা বক্তব্য দেন।
এনএস/কেএসআর
