সিট নিয়ে চবিতে ছাত্রদল নেতা-প্রভোস্টের বাগ্বিতণ্ডা
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সোহরাওয়ার্দী হলে এক শিক্ষার্থীকে সিট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হলটির প্রভোস্টের সঙ্গে চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের বাগ্বিতণ্ডার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও রেকর্ডে প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুল মান্নানকে নোমান বলেন, “আপনি কি ভিসি-প্রোভিসির চেয়েও বড়? আপনি শিবিরের ক্যাডারের চেয়েও বড় হয়ে গেছেন। আপনি আমার নেতাকর্মীদের সঙ্গে অনেক মিসবিহেভ করেছেন। আপনি শিবিরের স্টাবলিশ করেছেন।”
এ সময় তিনি আরো বলেন, “স্যার, আপনার হলে অ্যালটমেন্ট ব্যতীত আর সুপারিশে সিট কয়টা? সুপারিশ কীভাবে হয়েছে? সেগুলোর ডকুমেন্টস দিবেন। ছাত্র হিসেবে এগুলো আামাদের জানার অধিকার আছে।”
এ বিষয়ে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “নতুন সিট দেয়ার জন্যে নয়, সে অলরেডি আগে থেকে মেধার ভিত্তিতে হলে সিট পেয়ে অবস্থান করছে। তার মাস্টার্সের রেজাল্ট হয়ে যাওয়ায় সে এমফিলে ভর্তির প্রক্রিয়া চলমান, যার ডকুমেন্ট রাশেদের (সিট প্রত্যাশী শিক্ষার্থী) কাছে আছে। এ অবস্থায় তার সীটের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য প্রভোস্ট বরাবর সে আবেদন জানায়। প্রভোস্ট তার বিষয়টি আমলে নেয়নি। তারপর সে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) কাছে তার বিষয়টি উপস্থাপন করে, তিনি হলে সীটের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টা আমলে নিয়ে সুপারিশ জানায়।”
“হলে স্বচ্ছ-প্রক্রিয়ায় ও সুপারিশকৃত সিটের বিষয়টা জানতে চাওয়াটা কথাটা যদি স্যারের জন্য হুমকি হয়ে থাকে, তাহলে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় ও হলকে বৈষম্যমুক্ত ও দখল মুক্ত করতে এই কথা বলার সৎসাহস আমি নোমান সবসময় মনের মধ্যে লালন করি”, যোগ করেন নোমান।
এ বিষয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, “ঘটনাটি গতকালের। ওই শিক্ষার্থী এমফিলে ভর্তি হওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে, এখনো তার ভর্তি সম্পন্ন হয়নি। এমফিলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় প্রায় এক বছর সময় লাগে। তাই সিট সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে আমি তাকে কোনো সহযোগিতা করিনি।”
তিনি আরো বলেন, “অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক রয়েছে। সম্ভবত সিটপ্রত্যাশী ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি তাকে জানিয়েছে, আর এতেই তার মাথা গরম হয়ে গেছে। সে যে ধরনের কথা বলেছে, তা গ্রহণযোগ্য নয়। তবে, ঠিক কি বলেছে, সে বিষয়ে আমি আর মন্তব্য করতে চাই না। তারা শিক্ষার্থী, আর আমি তাদের শিক্ষক।”
