স্রোতের পানিতে আটকে পড়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করছে হাতি—ভিডিওটি নেপালের বন্যার নয়
তবে ভিডিওটি আসামের বন্যারই ঘটনা কি না, সেটি নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য, যাচাইয়ে পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি কি এআই-নির্মিত?
ভিডিওটির দৃশ্য পর্যালোচনা করলে কিছু অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে। বিশেষ করে, ব্যক্তি যেভাবে হাতিটির শুঁড় বেয়ে ওপরে উঠছেন এবং পরে হাতিটির ঘাড় দিয়ে নিচে নামছেন, সেখানে শরীরের ভঙ্গি ও নড়াচড়ার ধারাবাহিকতা কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়।
ভিডিওটি এআইয়ের সহায়তায় তৈরি কি না, তা যাচাই করতে Hive Moderation-এর এআই শনাক্তকরণ টুলে পরীক্ষা করা হয়। টুলটি ভিডিওটিকে এআই-নির্মিত হওয়ার সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ দেখিয়েছে।
শুধু এআই শনাক্তকারী টুলের ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো ভিডিওকে এআই-নির্মিত বলে নিশ্চিতভাবে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না; বরং ভিডিওটির উৎস ও প্রকৃত ঘটনাস্থল সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়া এবং ভিডিওটি প্রচারের সময়ই নেপালের দাবিটি মিথ্যা প্রমাণের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একই ভিডিও, বদলে গেছে প্রেক্ষাপট
ভিডিওটির প্রচারের ধারাবাহিকতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, একই দৃশ্য ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে।
৮–৯ আগস্ট: ভিডিওটি ভারত ও বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্যাপশনে ছড়ায়। কোথাও এটিকে আসামের বন্যার দৃশ্য বলা হয়, আবার কোথাও শুধু হাতির সাহায্যে মানুষ উদ্ধারের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
২৬ আগস্ট: নেপাল-তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে।
২৭ আগস্ট: এর আগে থেকেই অনলাইনে থাকা একই ভিডিও নতুন করে ‘নেপালের বন্যায় হাতি মানুষকে উদ্ধার করেছে’ দাবিতে ছড়িয়ে পড়ে।
অর্থাৎ নতুন একটি দুর্যোগের সঙ্গে পুরোনো ভিডিওকে যুক্ত করে প্রচারের মাধ্যমে ভিডিওটির প্রেক্ষাপট পরিবর্তন করা হয়েছে।
