ক্লাব ফুটবল দলবদলের ‘ডেডলাইন ডে’ কী, দিনটি নিয়ে কেন এত মাতামাতি
ডেডলাইন ডের রোমাঞ্চ
ডেডলাইন ডে মানেই যে সব ডিল হয়ে যাবে, তা কিন্তু নয়। বরং ডেডলাইন ডে কেন্দ্র করে মজার ঘটনার অভাব নেই।
ডেভিড ডে হ্যেয়া (২০১৫): ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রিয়াল মাদ্রিদে আসার সবকিছু সম্পন্ন ছিল স্প্যানিশ গোলরক্ষকের। তাঁর বদলে ইউনাইটেডে যাওয়ার কথা ছিল কেইলর নাভাসের। কিন্তু নাভাসের কাগজপত্র পাঠানো হলেও ডে হ্যেয়ার কাগজ ঠিক সময়ে ফ্যাক্স না করায় আটকে যায় দলবদল। নাভাস বিমানবন্দরে গিয়েও ফিরে আসেন।
আন্দ্রে আরশভিন (২০০৯): ডে হ্যেয়ার দলবদল আটকে গেলেও আন্দ্রে আরশাভিনকে ঠিকই কিনতে পেরেছিল আর্সেনাল। রাত ১২টার মধ্যে কাগজ পাঠানোর কথা থাকলেও ফ্যাক্স মেশিন জ্যাম হয়ে যাওয়ায় দেরি হয় প্রায় ২৪ ঘণ্টা! পরদিন প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় ট্রান্সফারটি অনুমোদন করায় সে যাত্রায় বেঁচে যায় আর্সেনাল।
পিটার ওডেমউইনগি, ২০১৩: ওয়েস্ট ব্রোমউইচ অ্যালবিয়ন ছেড়ে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সে যোগ দিচ্ছেন, এমন খবর শুনে গাড়ি নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন ওডেমউইনগি। কিউপিআরের মাঠে দাঁড়িয়ে সাক্ষাৎকারও দিয়ে দেন। অথচ তখনো দুই ক্লাবের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিই হয়নি। শেষ পর্যন্ত বনিবনা না হওয়ায় আগের ক্লাবেই ফিরতে হয় তাঁকে।
দিমিতার বারবাতভ (২০০৮): পুরো দলবদলের মৌসুম টানাহেঁচড়া চলেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর সিটির মধ্যে। অবশেষে শেষ দিনে এসে তাঁকে নিজ দলে টেনে নেয় ইউনাইটেড।
ডেডলাইন ডের ফুটবলীয় নাটকে কখনো জয় হয় ঘড়ির কাঁটার, কখনো–বা অর্থের। শেষ দিনে কেউ হাসে, কেউ প্রিয় খেলোয়াড়কে না কেনার শোকে পোড়ে। ফুটবল খেলাটা বোধ হয় সে কারণেই রঙিন।
মেসুত ওজিল (২০১৩): কোনো কথাবার্তা ছাড়া চমক হিসেবে হাজির হয়েছিল ওজিলের সাইনিং। আর্সেনাল ভক্তরা ৩১ তারিখ সন্ধ্যাতেও জানতেন না, ওজিল আসতে যাচ্ছেন তাঁদের দলে। গ্যারেথ বেলকে কেনার পর রিয়াল মাদ্রিদ দলে জায়গা সংকট হওয়ায় ওজিলকে ৪২ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভেড়ায় আর্সেনাল। সেদিন মধ্যরাতে ভক্তদের উল্লাস ছিল দেখার মতো।
