কনস্টান্টিনোপল জয়ের ভবিষ্যদ্বাণী, প্রথম অভিযানে ব্যর্থতার করুণ ইতিহাস


ড. ইয়াসির ক্বাদি

পঞ্চম হিজরির খন্দকের যুদ্ধের সেই দিনগুলোর কথা একটু কল্পনা করুন, যখন নবীজি (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন মুসলমানরা কনস্টান্টিনোপল জয় করবে। নবীজি (সা.) বলেছিলেন, ‘অচিরেই তোমরা কনস্টান্টিনোপল জয় করবে। সেই সেনাপতি কতই না উত্তম সেনাপতি হবেন, আর সেই সেনাবাহিনী কতই না উত্তম সেনাবাহিনী হবে!’

মুসলমানরা তখন নিজেদের ছোট্ট আবাসভূমি মদিনা রক্ষা করার জন্য পুরো আরবের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তখন কি এটা কল্পনা করাও সম্ভব ছিল যে, মুসলমানরা একদিন কনস্টান্টিনোপল জয় করতে পারবে!

মহানবীর (সা.) ওফাতের ঠিক পরের সময়ের কথাই ভাবুন। তৎকালীন পৃথিবীর মানচিত্রে সাহাবিরা ছিলেন দুর্বল ও ছোট একটি দল। এরপর তাদেরই জীবদ্দশায়, অর্থাৎ মাত্র এক প্রজন্মের ব্যবধানে তারা কী অলৌকিক পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেললেন! একে একে ধূলিসাৎ হলো তৎকালীন দুই পরাশক্তি; গোটা সাসানীয় পারস্য সাম্রাজ্য এবং বাইজেন্টাইন রোমান সাম্রাজ্যের অর্ধেকেরও বেশি অংশ। উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পেরিয়ে তাঁরা সোজা আঘাত হানলেন বিশ্ব রাজনীতির তৎকালীন মূল কেন্দ্রবিন্দু কনস্টান্টিনোপলের দুয়ারে।

এই অবিশ্বাস্য পরিবর্তন সত্যিই গভীর শ্রদ্ধা ও বিস্ময় জাগায়। যে প্রজন্মটি ছিল নিরক্ষর, যারা মূর্তি পূজায় লিপ্ত ছিল, পবিত্র কোরআনের আলো এসে যাদের জীবন বদলে দিল তারা মাত্র এক প্রজন্মের ব্যবধানে এমন এক সভ্যতার ভিত্তি ও শক্তিমত্তা তৈরি করল, যা আজ শত শত বছর পরেও বিশ্বকে বাকরুদ্ধ করে দেয়।

কনস্টান্টিনোপল ছিল রোমান সাম্রাজ্যের মূল হৃদপিণ্ড। তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড়, উন্নত ও সুদৃঢ় দুর্গ দিয়ে ঘেরা এক সুবিশাল রাজধানী। সাহাবিরা এই অজেয় নগরী অবরোধ করে রেখেছিলেন দীর্ঘ দিন। কিন্তু তারা এই নগরী জয় করতে পারেননি। সাহাবিদের কনস্টান্টিনোপল অভিযানের পেছনে প্রেরণা ছিল নবীজির (সা.) ওই ভবিষ্যদ্বাণী।

নবীজির (সা.) ভবিষ্যদ্বাণীর কারণে উম্মাহর চোখ সর্বদা নিবন্ধ ছিল কনস্টান্টিনোপলের ওপর। শত বছর ধরে বারবার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস অটুট ছিল যে, আল্লাহর নবীর এই ঘোষণা একদিন সত্য হবেই। অবশেষে ১৪৫৩ সালে তা সত্য হয়েছিল। সুলতান মোহাম্মদ ফাতেহ কনস্টান্টিনোপল জয় করেছিলেন।

ইতিহাসবিদরা যেসব অপ্রিয় বা ব্যথাতুর অধ্যায় এড়িয়ে যেতে চান, আমাদের আজ সেটাই আলোচনা করা দরকার। কারণ আসল সত্য হলো, চূড়ান্ত সফলতা কখনোই এক ধাক্কায় আসে না; তা আসে একের পর এক ব্যর্থতার পথ অতিক্রম করে। আপনি যদি পথের মাঝখানেই থমকে যান বা আশা ছেড়ে দেন, তবে বিজয়ের দেখা কোনোদিনই পাবেন না। আজকাল আমরা বড্ড অধৈর্য হয়ে পড়েছি, চোখের পলকে তাত্ক্ষণিক ফলাফল ও বিজয় দেখতে চাই। আমাদের পূর্বসূরিরা যদি আমাদের মতো এত তাড়াহুড়ো করতেন, তবে আজকের ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো।

ইতিহাসের যে অধ্যায়গুলো বেদনাদায়ক, আমাদের মূল ধারার ঐতিহাসিক বইগুলোতে তার বিবরণ খুব একটা পাওয়া যায় না। হয়তো কেবল এক লাইনে লেখা থাকে যে অমুক বছর অমুক সেনাপতিকে পাঠানো হয়েছিল এবং সেই মিশন সফল হয়নি। কারণ, ক্ষতের বিবরণ সবাই সবিস্তারে লিখতে চায় না। কিন্তু ওই যুগের সুরিয়ানি, ল্যাটিন, গ্রিক এবং এমনকি চীনা ইতিহাসের নথি বিশ্লেষণ করলে ওই অভিযানের বিশাল ও রোমাঞ্চকর চিত্র ফুটে ওঠে। চীনা ইতিহাসবিদরাও তৎকালীন সেই মহাযুদ্ধ এবং মুসলিম বাহিনীর অবরোধের কথা লিপিবদ্ধ করে গেছেন, কারণ এটি ছিল তৎকালীন পৃথিবীর এক বিশাল আন্তর্জাতিক খবর।

হজরত মুয়াবিয়ার (রা.) শাসনামলে যখন অভ্যন্তরীণ নানা রাজনৈতিক অস্থিরতা শান্ত হলো এবং মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমান্ত সিন্ধু নদ থেকে উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত হলো, তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু কনস্টান্টিনোপল জয় করার।

মুসলমানদের তখন কোনো শক্তিশালী নৌবাহিনী ছিল না। মরুভূমির মানুষদের সাগরে যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতাও ছিল না। মুয়াবিয়া (রা.) এক বিশাল নৌ বহর গঠন করলেন। ৫০০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং ৩০ হাজারের মতো প্রশিক্ষিত সৈন্য নিয়ে সেই বহরটি গঠিত হয়েছিল।

ভৌগোলিক দিক দিয়ে চিন্তা করলে বুঝবেন এই নৌ অভিযান কত কঠিন ছিল মুসলমানদের জন্য। মক্কা-মদিনার মরুভূমি থেকে সরাসরি জাহাজে চড়ে ইস্তাম্বুল যাওয়া সম্ভব ছিল না, কারণ তখন সুয়েজ খাল ছিল না। অভিযানের রসদ ও ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল মিশরীয় উপকূলীয় শহর আলেকজান্দ্রিয়া এবং সুরিয়া বা সিরিয়ার বন্দরগুলো থেকে। যেসব সৈন্য ও কারিগর এই বিশাল নৌ বহরে শামিল হয়েছিলেন, তাদের অনেকেই ছিলেন নবদীক্ষিত মুসলিম, যাদের পূর্বপুরুষরা বাইজেন্টাইন প্রযুক্তির সাথে পরিচিত ছিলেন।

সেই যুগের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাঠের জাহাজ নিয়ে সুদূর কনস্টান্টিনোপল পর্যন্ত একবারে পাড়ি দেওয়া সম্ভব ছিল না। তাই কৌশল হিসেবে মুয়াবিয়া (রা.) সমুদ্রের ছোট ছোট দ্বীপ ও উপকূলীয় শহরগুলো একে একে দখল করতে শুরু করেন, যাতে মূল অভিযানের জন্য একটি শক্তিশালী সাপ্লাই লাইন বা রসদ সরবরাহের পথ তৈরি করা যায়। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই সাইপ্রাস জয় করা হয়।

সাইপ্রাসের মাটিতে আজও একটি ঐতিহাসিক সমাধি রয়েছে, যা হজরত আনাস ইবনে মালিকের (রা.) খালা উম্মে হারামের (রা.)। সহিহ বুখারির হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন দুপুরে উম্মে হারামের (রা.) ঘরে বিশ্রাম নেওয়ার সময় স্বপ্নে দেখেন যে, তার উম্মতের একদল লোক সাগরের বুকে ভেসে জিহাদের জন্য যাত্রা করেছে। এই দৃশ্য দেখে নবীজি (সা.) হেসে উঠলেন।

উম্মে হারাম (রা.) তখন আরজ করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন আমিও সেই কাফেলাভুক্ত হতে পারি। নবীজি (সা.) তাঁর জন্য দোয়া করলেন এবং বললেন, তুমি অবশ্যই তাদের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মক্কা-মদিনার যে আরবরা সাগরের উত্তাল ঢেউকে ভীষণ ভয় পেত, তাদের ব্যাপারে এই ভবিষ্যদ্বাণীর প্রায় ৪০ বছর পর, প্রায় ৭৫ বছর বয়সের একজন বৃদ্ধা নারী হিসেবে উম্মে হারাম (রা.) সেই সমুদ্রগামী জাহাজে আরোহণ করেছিলেন। সাইপ্রাসে নামার পর বাহন থেকে পড়ে গিয়ে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। গ্রিক নিয়ন্ত্রিত সাইপ্রাসে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত মসজিদ ও মাজার আজও ওই ইতিহাসের কথা মনে করিয়ে দেয়।

সাইপ্রাসের পর মুসলিম বাহিনী একে একে সিসিকাস উপদ্বীপ এবং বর্তমান তুরস্কের ইজমির (তৎকালীন স্মার্না) শহর জয় করে কনস্টান্টিনোপল দুর্গের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। আনুমানিক হিজরি ৪৭ সনে, অর্থাৎ নবীজির (সা.) ওফাতের মাত্র ৪০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মরুভূমির মুসলিমরা রোমানদের সুরক্ষিত রাজধানীর দরজায় আঘাত হানে।

কিন্তু কনস্টান্টিনোপল ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এক দুর্ভেদ্য নগরী। ১০০০ বছর ধরে কোনো সেনাবাহিনী যে প্রাচীর ভাঙতে পারেনি, বারুদ ও কামানের ব্যবহার আবিষ্কারের আগে সাধারণ অস্ত্র দিয়ে সেই প্রাচীর ভেদ করা অসম্ভব ছিল। উপরন্তু, সমুদ্রবেষ্টিত হওয়ায় ওই শহরের মানুষকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে অনাহারে কাবু করাও সম্ভব হয়নি।

কয়েক মাস ধরে টানা অবরোধ চলল, যা ধীরে ধীরে বছরে গড়ায়। এরই মধ্যে শুরু হলো শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ও শীতলতম শীতকাল। মরুভূমির তীব্র গরম ও রোদে অভ্যস্ত সৈন্যদের জন্য বরফশীতল সেই শীত সহ্য করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। সেই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেই বাহিনীর অন্যতম জ্যেষ্ঠ সদস্য, মহানবীর (সা.) প্রিয় সাহাবি হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) দুর্গের দেয়ালের বাইরে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে তিনি অসিয়ত করে গিয়েছিলেন, তার মরদেহ যেন মুসলিম বাহিনীর শেষ সীমান্ত পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে রোমানদের প্রাচীরের ঠিক নিচে দাফন করা হয়।

পরিস্থিতি যখন জটিল রূপ ধারণ করল, তখন মুসলিম বাহিনী চূড়ান্ত নৌ আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বাইজেন্টাইন সম্রাটরা একটি মারাত্মক ফাঁদ তৈরি করে রেখেছিল। তারা বসফরাস প্রণালীর মুখ অবরুদ্ধ করে মুসলিম জাহাজগুলোকে আটকে ফেলে এবং ইতিহাস কাঁপানো এক গোপন রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করে—যার নাম ‘গ্রিক ফায়ার’।

ইতিহাসের এক রহস্যময় আবিষ্কার এই গ্রিক ফায়ার। সিরিয়া থেকে পালিয়ে আসা কালিনিকোস নামের এক খ্রিষ্টান রসায়নবিদ এই অগ্নেয়াস্ত্রের প্রযুক্তি রোমান সম্রাটের কাছে বিক্রি করেছিলেন। এটি ছিল এমন এক ধরনের প্রক্ষেপণযোগ্য রাসায়নিক পদার্থ, যা পানির ওপর ছড়িয়ে পড়লেও দাউদাউ করে জ্বলতে থাকত। পানির সংস্পর্শে আগুন নেভা তো দূরের কথা, বরং তা দ্বিগুণ বেগে ছড়িয়ে পড়ত।

এই গোপন ও অভূতপূর্ব অস্ত্রের আঘাতে সমুদ্রের বুকে পুরো মুসলিম নৌবহর অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়ে যায়। বহু সৈন্য শাহাদাত বরণ করেন। বাইজেন্টাইন ইতিহাসে বলা হয়, প্রায় হাজারটি জাহাজের মধ্যে মাত্র কয়েকটি জাহাজ প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরতে পেরেছিল। এই সামুদ্রিক বিপর্যয় মুসলিম বাহিনীর জন্য এতটাই ট্রমাটিক ছিল যে, তৎকালীন আরবি ইতিহাসগুলোতে এই পরাজয়ের বিস্তারিত বিবরণ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এই বিপর্যয়ের ফলে সাময়িকভাবে শক্তি হারিয়ে মুয়াবিয়াকে (রা.) একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বাইজেন্টাইন সম্রাটকে বড় অংকের কর বা অর্থ প্রদান করতে হয়েছিল, যাতে তারা পুনর্গঠিত হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ না করে।

বাহ্যিক দৃষ্টিতে এটি একটি বিশাল পরাজয় মনে হতে পারে, কিন্তু প্রকৃত অর্থে এটি ছিল চূড়ান্ত বিজয়ের প্রথম শক্ত ভিত্তিপ্রস্তর। যদি সাহাবিরা তাদের বীরত্ব ও রক্ত দিয়ে কনস্টান্টিনোপল চেনার পথ না তৈরি করতেন, তবে ৭০০ বছর পর সুলতান মুহাম্মাদ আল-ফাতিহের পক্ষে জাহাজ ডাঙ্গায় তুলে কিংবা কামানের গোলায় সেই দুর্গ জয় করা সম্ভব হতো না।

এই পুরো কাহিনীর সবচেয়ে বিস্ময়কর ও প্রতীকী দিক কোনটি? একটু চিন্তা করে দেখুন।

যে মানুষটি মদিনায় ইসলামের সূচনালগ্নে নিজের ঘরে আল্লাহর রাসুল (সা.) সাত মাস মেহমান হিসেবে পরম আদরে স্থান দিয়েছিলেন, যে মানুষটি একটি নতুন সভ্যতার জন্ম স্বচক্ষে দেখেছেন। আল্লাহ তাআলা সেই পরম সম্মানিত সাহাবি আবু আইয়ুব আনসারিকেই (রা.) বেছে নিলেন সুদূর ইস্তাম্বুলের প্রাচীরের নিচে শায়িত হওয়ার জন্য। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, এটি আল্লাহর এক বার্তা।

আজও ইস্তাম্বুলে গেলে দেখা যায়, যেখানে তাঁর সমাধি রয়েছে, সেই পুরো জেলাটির নামই দেওয়া হয়েছে ‘সুলতান আইয়ুব’।

সফলতা কখনো একদিনে বা এক প্রজন্মে আসে না। সফলতা হলো এমন এক দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যেখানে এক প্রজন্ম ভিত্তি স্থাপন করে যায়, আর অন্য এক প্রজন্ম এসে তাতে বিজয়ের পতাকা ওড়ায়। সাহাবিরা আমাদের সেই বহুমাত্রিক দূরদর্শিতা ও ধৈর্যের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তারা রক্ত ও শ্রম দিয়ে যে ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন, আল্লাহ সেই ত্যাগকে কবুল করেছেন।

আমাদের দায়িত্ব হলো নিজেদের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো, সঠিক পরিকল্পনা করা এবং ফলাফলের জন্য হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর আস্থা রাখা।

সূত্র: ড. ইয়াসির ক্বাদির অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল

ওএফএফ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *