প্রধানমন্ত্রীকে পাশে রেখে মির্জা আব্বাসের আবেগঘন বক্তব্য
দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসার পর দেশে ফেরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় আবেগঘন বক্তব্য রেখেছেন; দিয়েছেন দলের ‘ভেতরে ও বাইরে থেকে ষড়যন্ত্রের’ সতর্কবার্তা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে বসে তিনি যখন কথা বলছিলেন, তখন বারবার তার গলা ধরে আসছিল।
সাড়ে পাঁচ মাসের অনুপস্থিতির কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, এ সময়ে দেশের মানুষের অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার খোঁজখবর রেখেছেন। একজন কর্মী দলের কাছ থেকে কী আশা করে, নেতারা খোঁজখবর রাখবেন, নেতারা ভালোবাসবেন, বিপদে পড়লে পাশে দাঁড়াবেন। অথবা সমবেদনা জানাবেন। সেটাই পেয়েছি।
তিনি বলেন, আজকে একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এ দলের বিরুদ্ধে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে এই দলের বিরুদ্ধে। অনেক ষড়যন্ত্র হবে মাননীয় নেতা আপনার বিরুদ্ধে, আপনাদের বিরুদ্ধে।
আপনি দরকার হয় সাবধান থাকবেন এবং আপনি অনেক উদার আমি জানি, নিসন্দেহে। তবে সবসময় এমন হওয়া যাবে না। এটুকু আপনাকে আমি বলতে চাই।
ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, বহু কর্মী আছেন, নেতা আছেন, যারা আপনার সামনে অনেক ভালো ভালো কথা বলেন, বাইরে আসে কিন্তু ভালো কথা বলেন না।
জিজ্ঞেস করলে তিনি প্রধানমন্ত্রী সেসব কথা বলবেন তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, বিষয়গুলা সম্বন্ধে আপনার একটু সাবধান হওয়া উচিত। কারণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, উনি, বলতে পারি আমরা যে, স্বাভাবিক। না, খালেদা জিয়ার মৃত্যু অন্তত আমার কাছে স্বাভাবিক নয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বহুদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ওনার মৃত্যু, নিসন্দেহে কেউ হত্যা করেনি, এটা ঠিক আছে। কিন্তু উনি যেভাবে মারা গেছেন, তা আমাদের কাম্য ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনেক ভালো ভালো কাজ, খারাপ লোকের খারাপ কথায়, খারাপ কাজে নষ্টা হয়ে যাচ্ছে তুলে ধরে সে দিকে লক্ষ্য রাখার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
জিয়াউর রহমানের হাতে রাজনীতির দীক্ষা পাওয়া এবং খালেদা জিয়ার কাছে লালিত হওয়ার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বিএনপির চেয়ারম্যানের উদ্দেশে বলেন, আপনার সঙ্গে রাজনীতি করেই আমার রাজনৈতিক জীবন শেষ করতে চাই। এখানে আর কোনো কিছু সুযোগ নাই।… এখানে কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করবে না।
ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেগুলো আমি জানব, দলের জন্য ক্ষতিকর, দেশের জন্য ক্ষতিকর সেগুলো আপনাকে জানাবো ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই আলোচনা সভা হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপির প্রতিষ্ঠা করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, আমার অনেক নেতাকর্মী আছেন…কিছু মনে করবেন না আমি খোলাখুলি বলি… কিছু নেতা-কর্মীর জন্য বদনাম হচ্ছে। আপনাদের বয়সটা আমাদের ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি, রাজনীতি শিখেছি, দেশনেত্রী বেগম খালে জিয়ার সঙ্গে থেকে রাজনীতি করেছি। কিন্তু আমাদের সময়ের দুই-একজন হাতে লোক ছাড়া এই দলের কোনো বদনাম আমাদের মাধ্যমে হয়নি।
দলের প্রতিষ্ঠাতাকে হত্যা, খালেদা জিয়ার কারাভোগ, নির্যাতনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা জেল খেটেছি… দলটা এখনো ঠিক আছে। দলটা আরও টিকে থাকবে। এ দলটা মরে যাওয়ার জন্য আসে নাই, ভেঙ্গে যাওয়ার জন্য আসে নাই। দুই-একজন লোকের জন্য দলটা বদনাম হতে পারে না, এটা একটু আপনারা খেয়াল রাখবেন। আমি মনে করি আমি কি বলেছি এটা আমার নেতা বুঝেছেন এবং আপনারা ভালো করে বুঝেছেন।
এ সময় তিনি বিএনপি ও দেশকে বাঁচানোর জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
দলের ভারপ্রাপ্ত মহসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এবং প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিহউল্লাহ, বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান,এজেডএম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম
