‘কেউ দেখেছেন আমার মেয়েকে? এক বছর ধরে খুঁজে পাচ্ছি না’


মো. তামিম ওরফে আবদুল্লাহ (১৫) রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার সরিষা প্রেমটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত বছরের ২০ মে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। বাবা মো. নজরুল ইসলাম অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, তাঁর দুই ছেলেমেয়ের মধ্যে তামিম ছোট। বাংলাদেশের এ প্রান্ত ও প্রান্ত খুঁজেও ছেলের সন্ধান পাননি। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় কবিরাজ থেকে শুরু করে ‘জিন নামায়’ ব্যক্তির কাছে যাওয়া, যে যা করতে বলেছেন তিনি করেছেন। তিনি বলেন, ‘সবার কাছে অনুরোধ, আমার যা কিছু আছে সব দিয়ে দেব। আমি রাস্তায় নেমে যাব। আমি আমার সন্তানকে চাই।’

তহুরা ইসলাম (২২) জানান, ১ মাস ২০ দিন হয়ে গেছে তাঁর ছেলে নিখোঁজ। থানায় জিডি করেছেন। তিনি নবাবগঞ্জের দোহায় শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বাসার একটি কক্ষে দুই বছরের সন্তান মো. তোহা আদনানকে মুঠোফোন দিয়ে বসিয়ে পাশের কক্ষে যান। পাঁচ মিনিট পর এসে দেখেন ছেলে নেই। বিছানায় মুঠোফোন পড়ে আছে।

লামিয়া নামের এক শিশুকে কোলে নিয়ে মো. সবুজ মিয়া ও চম্পা বেগম (২৫) এসেছিলেন অনুষ্ঠানে। চম্পা বেগম লামিয়াকে দেখিয়ে জানান, ওর যমজ বোন সামিয়া বাড়ির সামনে খেলতে থাকা অবস্থায় আড়াই বছর আগে নিখোঁজ হয়েছে। তিনি প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে আসামি করে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। মাত্র তিন মাস পর কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে আসেন আসামি; কিন্তু সন্তানকে খুঁজে পাননি। চম্পা বলেন, ছয় মাস আগে টিকটকে একটি শিশুকে নিয়ে কনটেন্ট দেখতে পান। ওই শিশুটি তাঁর হারিয়ে যাওয়া সামিয়া দাবি করে তিনি বলেন, শিশুটি যশোরে একটি পরিবারে আছে জেনে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন; কিন্তু পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাননি। পুলিশের এক কথা, এই মেয়েটি তাঁর নয়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *