পাবিপ্রবির স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে বিভাগে তালা


পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা আরজুমান্দ বানুর পদত্যাগের দাবিতে বিভাগে তালা ঝুলিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাংশ।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিভাগের অফিসে তালা দেন তারা। এর আগে ৩টার দিকে একই দাবিতে রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্মের কাছে লিখিত আবেদন দেন শিক্ষার্থীরা।

লিখিত আবেদনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং বিভাগীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগও করা হয়। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তারা চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব, একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অদক্ষতা, বিভাগীয় সমস্যাগুলো বিভাগীয় পর্যায়ে সমাধানে ব্যর্থতা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ, একাডেমিক মূল্যায়ন ও মার্কিং ব্যবস্থায় অসামঞ্জস্য এবং স্টুডেন্ট ফান্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি।

এছাড়া আর্কিটেকচার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে অসহযোগিতা, সেমিস্টার প্রজেক্ট ও একাডেমিক কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা, কেন্দ্রীয় রুটিন থেকে শিক্ষার্থীদের বাদ পড়া, সেশনজট এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যা সমাধানে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগও করেন তারা।

স্টুডেন্ট ফান্ডের বিষয়ে শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘আর্কিটেকচার স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ফান্ডে এক লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা জমা হয়েছে। এই টাকা কোথায়, কখন এবং কোন খাতে খরচ হয়েছে, তা আমাদের জানানো হয়নি। বর্তমানে সমিতির অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই।’

 

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী এই আন্দোলনকে ‌‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। তারা বলেন, ‘আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সব সময় পিছিয়ে আছে। বিভাগের শিক্ষকদের এই অন্তঃকোন্দলের কারণে আমাদের আগের ব্যাচগুলোর পড়াশোনা শেষ করতে আট বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। বিভাগের নামে যেসব সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো আমাদের কাছে বাস্তবসম্মত মনে হয়নি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই আন্দোলন করানো হচ্ছে।’

তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগকে ‘বানোয়াট’ ও ‘চক্রান্ত’ বলে দাবি করেন স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা আরজুমান্দ বানু।

তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। শিক্ষার্থীদের কেউ আমার কাছে এসে বলেনি যে, ম্যাম, সমিতির টাকার হিসাব দিতে হবে। ব্যাংক স্টেটমেন্ট তাদের হাতে যাওয়ার কথা নয়। তারা যেটা দেখাচ্ছে, সেটা সম্পূর্ণ বানোয়াট।’

এসআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *