পরকীয়া প্রেমিকের যোগসাজশে স্বামীকে ওষুধ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ
পঞ্চগড়ে পরকীয়া প্রেমিকের যোগসাজশে আলম হক (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে পানির সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মৌসুমী আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৌসুমিকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের শিংরোড প্রধান পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আলম ওই এলাকার তসলিম উদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত শনিবার রাতে খাবার সময় দুটি সাদা বড়ি পানির সাথে মিশিয়ে স্বামী আলমকে খাওয়ান মৌসুমী। এর কিছুক্ষণ পরেই আলম অসুস্থ হয়ে পড়লে মধ্যরাতে তাকে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রংপুরে নেওয়ার পথে আলমের মৃত্যু হয়। সোমবার স্থানীয় মানুষ ও পুলিশের সামনে মৌসুমী নিজেই এ তথ্য জানান। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, একই এলাকার বাবুল হোসেন তাকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিতো। মেয়েকে গুমের হুমকি দিয়ে তার স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে বড়ি দুটি তুলে দেয় মৌসুমীর হাতে।
মৌসুমী বলেন, “বাবুলের সাথে শারীরিক সম্পর্ক না করলে আমার মেয়েকে গুম করার হুমকি দেয়। এর পর আমার হাতে দুটি সাদা ঘুমের বড়ি তুলে দেয়। ওই বড়ি খাওয়ালে আমার স্বামী ঘুমিয়ে পড়বে আর ওই সুযোগে সে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করবে। আমি সন্তানকে বাঁচাতে স্বামীকে পানির সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে বাধ্য হই। কিছুক্ষণ পর সে বমি করে। আমি জানতাম না, এটি খাওয়ালে আমার স্বামী মারা যাবে।”
আলমের ভাই জাকির হোসেন বলেন, “আমার ভাই খাওয়ার সময় তেতো অনুভব করেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি বমি শুরু করেন। তখনই আমাদের ধারণা হয়, তাকে কিছু খাওয়ানো হয়েছে। আমার ভাবি তারপরও স্বীকার করেননি। আজ যখন সবাই তাকে জিজ্ঞেস করেছে, তখন সে সত্যটা প্রকাশ করেছে। আমরা এ ঘটনার ন্যায় বিচার চাই।”
পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “আলমের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আজ তার স্ত্রীকে স্থানীয়রা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। আমাদের তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।”
