আমরা শেখ হাসিনাকে ধরে আনতে চাই: তথ্য উপদেষ্টা
ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে সরকার দেশে ‘ধরে নিয়ে আসতে চায়’।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা আপনার আসতে হবে না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন জাহেদ উর রহমান।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে আছেন শেখ হাসিনা। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তবে আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার দল আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের ওপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার আপিল করারও সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, আপনারা খেয়াল করেছেন আইসিটির আমাদের চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন তারা এখন আর আপিল করারও সুযোগ নাই যে উনি এসে আপিল করে আবার তিনি তার যে বিচার হয়েছে সেটা পুনর্বিবেচনা করাবেন সে সময়ও নাই। তার মানে ব্যাপারটা টেকনিক্যালি এখন এরকম—তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে, আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, কেউ কেউ এ ধরনের স্পেকুলেট করছেন। এটা আসলে চায় না, ইন্ডিয়ার ওপর একটা চাপ তৈরির জন্য। আমরা একটা কথা খুব ক্লিয়ারলি বলতে চাই—প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সাথে যখন এটাকে কন্ডিশন হিসেবে দেওয়া হয়েছে, ইউ হ্যাভ টু টেক ইট সিরিয়াসলি।
সম্প্রতি শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এখন সাম্প্রতিক সময়ে আবার তিনি—একটা সময় তো প্রেস কনফারেন্স করেছিলেন, যেটি নিয়ে আমরা খুব স্ট্রংলি রিয়্যাকশন দিয়েছি। এখন তিনি কিছু মিডিয়ার সাথে কথা বলছেন, সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন, ভারতের প্রতিষ্ঠিত মিডিয়ার সাথে। বুঝতেই পারেন এটা আনএক্সপেক্টেড। আমরা তাকে প্রত্যর্পণের আগ পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এগুলো করতে না পারেন, আমরা এক্সপেক্ট করেছিলাম, এক্সপেক্ট করব ভারত সরকার এই ব্যাপারে তাকে একটা বার দেবেন।
শেখ হাসিনাকে সংবাদ সম্মেলন, সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ দেওয়া ‘ঠিক হচ্ছে না’ বলেও মন্তব্য করেন জাহেদ।
তার কথায়, তিনি ওখানে পালিয়ে অ্যাবসকন্ডেড হয়ে আছেন এবং তাকে তার স্ট্যাটাসটাও আমরা জানি না যে তিনি এই রাইটগুলো আসলে এনজয় করতে পারেন কি না—এগুলোরও ক্লারিফিকেশন নাই। সো আমি মনে করি যে এটা তাদের দিক থেকে সঠিক হচ্ছে না। আর আমরা তাকে আনতে চাইছি প্রত্যর্পণের দাবিটা স্ট্রং।
ভারত সরকারকে শেখ হাসিনার মুখ বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি (হাসিনা) আসুন, তিনি নিজে আসুন বা আমরা আনি—আমরা এটা করতেই চাই, এর মধ্যে কোনো কৌশল নেই। আর ইন্ডিয়ান সরকার এই যে সম্পর্কটা যে জায়গায় চলে গিয়েছিল, তাকে উন্নতি করার জন্য অন্তত একটা স্টেপ কিন্তু ইমিডিয়েটলি তারা নিতে পারতেন, সেটা হচ্ছে তার মুখ বন্ধ রাখা। সেটা কেন নিচ্ছেন না সেই জবাব আমার মনে হয় আমি আপনাদের কাছে চাইব।
সম্প্রতি দীনেশ ত্রিবেদীর ঢাকায় ভারতের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আশা করব আপনারা তাকে এটুকু জিজ্ঞেস করুন যে, শেখ হাসিনার ব্যাপারে তো আমাদের সেনসিটিভিটি আছে। তিনি (হাসিনা) যেসব কথা বলে বেড়াচ্ছেন, শুধু তাই নয়, যেমন ধরুন আজমেরী হক বাঁধনের কথা বললাম, এটা না শুধু—এর আগেও যারা গেছেন আমরা যে কেউ গেলে কিন্তু এই হামলার শিকার হতে পারি। এই ঘটনাগুলো যখন ঘটছে তখন শেখ হাসিনাকে মিডিয়ায় কথা বলতে দেখা আমাদের ক্ষুব্ধ করে সেটা তো তাদের (ভারত) বোঝা উচিত।
জাহেদ বলেন, শেখ হাসিনা যখন সংবাদ সম্মেলন করেছিল আমাদের যে প্রতিবাদলিপি ছিল, সে প্রতিবাদলিপিতে এই কথাটাই বলা হয়েছে যে একটা এনভায়রনমেন্ট আসলে লাগবে, আস্থার এনভায়রনমেন্ট। আমাকে কনভিন্সড হতে হবে আপনি আসলে আমার সাথে যথেষ্ট এনগেইজ করতে চাইছেন।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং তথ্য অধিদপ্তরের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম
