স্থানীয় নির্বাচন: বিদ্যমান আইন ও বিধিতে একগুচ্ছ পরিবর্তনের প্রস্তাব ইসির
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিদ্যমান আইন ও বিধিতে একগুচ্ছ পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তাবিত সংশোধনীতে প্রার্থিতা বাতিল, নির্বাচনি অনিয়মে ভোট বন্ধ, হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে ব্যবস্থা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয়ে নতুন বিধান যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
সম্প্রতি ইসির স্থানীয় সরকার আইন ও বিধি সংশোধনের এ প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হলেও ইসির বর্তমান প্রস্তাবে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা যুক্ত করা হয়নি।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে প্রার্থীদের হলফনামায় আরো তথ্য সংযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। কোনো প্রার্থী হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করলে তার প্রার্থিতা বাতিল করার বিধান যুক্ত করতে চায় কমিশন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাবও করেছে ইসি। তবে, কেউ অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া, ঋণখেলাপি ও বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারদের নির্বাচনে অযোগ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে, তাদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরিতে থাকা অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব করেছে কমিশন।
নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ভোটগ্রহণ বন্ধ করার ক্ষমতা ইসির হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে কোনো কেন্দ্র বা নির্বাচনি এলাকায় অনিয়মের অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশনের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়বে।
প্রস্তাবিত আইনে কমিশনের প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতার বিধানও রয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনি প্রতিনিধি গুরুতর বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে বা আইন ও বিধি লঙ্ঘন করলে কমিশন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে।
অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। পলাতক ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকানোর লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব করেছে ইসি। তবে একাধিক স্থানে মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন অপরাধের শাস্তি বাড়ানোর প্রস্তাবও করেছে কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনি অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকতে পারে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রেও কারাদণ্ডের বিধান রাখার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করা সম্ভব না হলে কমিশন পরবর্তী সুবিধাজনক সময়ে ভোট আয়োজন করতে পারবে।
‘না’ ভোট থাকছে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে ‘না’ ভোটের ব্যবস্থা চালুর পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এমন বিধান আসবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা থাকলেও ইসির প্রস্তাবে ‘না’ ভোট যুক্ত করা হয়নি।
ইসি জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। এবার উপজেলা ভিত্তিক ইউপি ভোট হবে। চলতি মাসে প্রথম ধাপের নির্বাচনের তফসিল হতে পারে।
